• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

মির্জা ফখরুলের ৭৯তম জন্মদিন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৫ এ.এম.
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-ফাইল ছবি

বিএনপির মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৯তম জন্মদিন আজ। জীবনের আরও একটি বছর অতিক্রম করে নতুন বছরে পা রাখলেন দেশের অন্যতম এই বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। জন্মদিন উপলক্ষে তিনি একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

বিশেষ এই দিনটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগতভাবে তাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা চড়াই-উতরাই পেরোনো মির্জা ফখরুলের জন্মদিনটি এ বছর এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সময়পর্বে-ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে।

জন্মদিন উপলক্ষে রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে কেক কাটেন মির্জা ফখরুল। এ সময় তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম, পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। রাজনৈতিক ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি জন্মদিনের সময়টুকু একান্তভাবে পরিবারের সঙ্গেই কাটান।

টানা নির্বাচনী গণসংযোগ ও কর্মসূচির কারণে রাজধানী ও নিজ নির্বাচনী এলাকায় দৌড়ঝাঁপের মাঝেই জন্মদিন আসে বিএনপির মহাসচিবের। নির্বাচনী মাঠের ব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোকে তিনি আনন্দের ও প্রশান্তির বলে উল্লেখ করেন।

সোমবার সকালে মির্জা ফখরুল জানান, শারীরিকভাবে তিনি কিছুটা অসুস্থ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ধুলাবালি, শীত ও গরমের কারণে গলায় ব্যথা অনুভব করছেন। তবে এ অসুস্থতা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তার গতি কমাতে পারেনি।

জন্মদিন উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ফোন, বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। এছাড়াও ঠাকুরগাঁওসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সুধীজনরা তাকে অভিনন্দন জানান।

জন্মদিনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দেশের মানুষের মুক্তি, অধিকার ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ফিরবে এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

তার ভাষায়, “আমি বিশ্বাস করি, এই দেশ একদিন বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা একটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।”

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ছিলেন মেধাবী ও রাজনীতি সচেতন একজন ছাত্র।

১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি মির্জা ফখরুল বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর ব্যক্তিগত সচিব নিযুক্ত হন। ১৯৮২ সালে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা গ্রহণের পর এস এ বারী পদত্যাগ করা পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন। এরপর আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গিয়ে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবন শুরু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি দিয়ে। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা ছেড়ে পুরোপুরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিয়ে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন এবং জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মহাসচিব নির্বাচিত হন।

মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও তিনি সংসদে যোগ দেননি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তিনি ছিলেন সামনের সারির একজন নেতা।

মির্জা ফখরুলের বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) ছিলেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক সংসদ সদস্য। মা মরহুমা মির্জা ফাতেমা আমিন।

তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে কর্মরত। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় পোস্ট ডক্টরাল ফেলো হিসেবে কর্মরত এবং ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ রাজধানীর একটি স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভোটের ফল দিতে দেরি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না
মির্জা আব্বাস: ভোটের ফল দিতে দেরি হলে তা মেনে নেওয়া হবে না
সিরাজগঞ্জে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান
সিরাজগঞ্জে জনসভার মঞ্চে তারেক রহমান
জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নির্বাচনে জয় সম্ভব নয়
তারেক রহমান: জনবিচ্ছিন্ন হয়ে নির্বাচনে জয় সম্ভব নয়