তারেক রহমান
ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে

নির্বাচিত হলে কঠোরহস্তে দুর্নীতি দমন করা হবে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হবে-এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে। অপরাধী নিজ দলের কেউ হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলকভাবে পরিচালনা করা হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সমাবেশে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
সমাবেশে উপস্থিত হয়ে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় জনতার উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘অনেরা ক্যান আছন?’ জবাবে উপস্থিত জনতা সমস্বরে বলেন, ‘ভালা আছি।’ এই সংলাপে মুহূর্তেই প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে সমাবেশস্থলে।
বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেতে চায়। দোষারোপের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে গঠনমূলক সমালোচনার রাজনীতিতে যেতে হবে। শুধু সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে দেশের মানুষের কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি দাবি করেন, বিএনপি যতবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, ততবারই সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিএনপি সরকার কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, “কৃষক ভালো থাকলে ভালো থাকবে বাংলাদেশ।” এ সময় তিনি খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন।
শিল্প ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে টেকসই প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
শিক্ষা খাত নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু পুঁথিগত বিদ্যার ওপর নির্ভরশীল শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে আধুনিক রাষ্ট্র গড়া সম্ভব নয়। বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে কেবল সার্টিফিকেট নয়, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।
এ সময় তারেক রহমান আওয়ামী লীগের ১৯৯৬–২০০১ মেয়াদে দুর্নীতির ঊর্ধ্বগতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির সূচক ধারাবাহিকভাবে কমেছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশকে দুর্নীতির কড়াল গ্রাস থেকে মুক্ত করা হয়েছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে চট্টগ্রামের সঙ্গে নিজের আত্মিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। একই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে তার ও তার পরিবারের গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
এর আগে সকালে চট্টগ্রামের একটি অভিজাত হোটেলে যুব সংলাপে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, নারীর ক্ষমতায়ন ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার নানা পরিকল্পনা তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি তরুণদের কাছ থেকে বিভিন্ন পরামর্শ গ্রহণ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
ভিওডি বাংলা/জা







