জামায়াত আমির:
চাঁদাবাজি ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট

দেশে চাঁদাবাজি একটি “নতুন পেশা” হিসেবে ভালোভাবেই চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, চাঁদাবাজির পথ পরিত্যাগ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জামায়াতের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে ‘কমপ্লিট লালকার্ড’। কোনো অবস্থাতেই দেশে চাঁদাবাজির সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এই দেশে এখন একটি নতুন পেশা খুব ভালো চলছে। আপনারা কি বলতে পারবেন সেই পেশার নাম কী? সেই পেশার নাম হলো-চাঁদাবাজি।” এ সময় তিনি জনসভায় উপস্থিত মানুষের প্রতিক্রিয়া জানতে চান এবং প্রশ্ন করেন, “আপনারা কেউ কি চাঁদাবাজের ভাই হতে রাজি আছেন? পিতা, সন্তান, স্ত্রী, মা বা বোন হতে রাজি আছেন?” জনতা একযোগে ‘না’ বলে সাড়া দেয়।
তিনি বলেন, “আজকের এই জনসভা থেকে আমি যারা এই পেশার সঙ্গে জড়িত, তাদের অনুরোধ করবো—ভালো পথে ফিরে আসুন। আপনারা যদি চান, আমরা আপনাদের হালাল রুজির ব্যবস্থা করে দেব, ইনশাআল্লাহ।”
তবে একই সঙ্গে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, “কিন্তু যদি এই পথ বাদ না দেন, তাহলে আমরা একদম পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিচ্ছি-আমাদের পক্ষ থেকে থাকবে কমপ্লিট লালকার্ড। চাঁদাবাজির সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। চাঁদা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমরা চাঁদাকে ঘৃণা করি। এটা ভিক্ষার চেয়েও নিকৃষ্ট কাজ।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “আমরা ইনশাআল্লাহ কারো মায়ের সন্তানকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। কথাটা একদম সাফ। এখানে কোনো রাগ বা হুমকি নেই, আছে ন্যায়বিচার ও আদর্শের ঘোষণা।”
রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমরা জনগণের বিজয় চাই। জনগণের বিজয় হলেই আমাদের বিজয়। আলহামদুলিল্লাহ। সেই বিজয়ের জন্যই আমরা কাজ করছি।”
জনসভায় জামায়াত নেতাকর্মী ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেওয়া বক্তব্যে বারবার করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান উপস্থিত জনতা।
ভিওডি বাংলা/জা







