নেত্রকোণা–৩
বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রচারে বাধা, হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিযোগীতা করা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার নির্বাচনী প্রচারে বাধা, কর্মীদের ওপর একের পর পর হামলা ও প্রচার মাইক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
এমন অভিযোগ উঠেছে বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছেন দেলোয়ার হোসেনের সমর্থকরা।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচনী প্রচারের প্রথম দিনেই আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী বাজারে দেলোয়ার হোসেনের প্রচারে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটে। এদিন সন্ধ্যায় কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা বাজারে প্রচার মাইক ভেঙে ফেলার পাশাপাশি একজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়। একই সময়ে কর্মীদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। এছাড়া উপজেলার সাহিতপুর বাজারে প্রকাশ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মিছিল করে রফিক হিলালীর লোকজন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরদিন শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার চন্দনকান্দি গ্রামের প্রচারণায় দেলোয়ার হেসেনের সমর্থকদের লিফলেট কেড়ে নেওয়া হয়। পরে ওই লিফলেটের সাথে টাকা যুক্ত করে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে প্রচার করে রফিক হিলালীর সমর্থকরা। এদিন বিকালে উপজেলার সাহিতপুর বাজারে দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক বিকাশ ব্যবসায়ী জহিরুলকে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে উপজেলার সাখড়া মোড়ে দেলোয়ার হোসেনের ঘোড়া প্রতীকের নির্বাচনী ভাংচুর করে ও মঞ্জু মিয়া নামে একজনকে মারধর করে আহত করা হয়।
এদিকে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে কেন্দুয়া উপজেলার সাহিতপুর বাজারে দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক শরীফ উদ্দিনকে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে জখম করে তার সাথে থাকা ৫৮ হাজার টাকা নিয়ে যায় রফিকুল ইসলাম হিলালীর সমর্থকরা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত একাধিক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিদ্রোহী প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনের ১০-১৫ জন সমর্থককে আহত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ হওয়ার প্রথম দিন থেকেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা আমার প্রচারে বাঁধা, প্রচার যন্ত্র মাইক ও বাহন সিএনজি ভাঙচুর করে আমার সমর্থকদের মারধর করে যাচ্ছে। এছাড়া আমার কর্মী সমর্থকদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমার পক্ষে আমার নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ম্যানেজার আবদুল কাদির ভূঁইয়া রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, থানা-পুলিশ, সেনা ক্যাম্প থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।'
জানতে চাইলে রফিকুল ইসলাম হিলালী গন্যমাধ্যমকে বলেন, আমার নেতাকর্মীদের বলেছি। কোথাও কোনও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে। শান্তিপূর্ণ প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা স্থানীয় বিরোধের জেরে। এসব ঘটনায় আমাদের কোনও নেতাকর্মী জড়িত নেই।
এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কেন্দুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, 'অভিযোগের বিষয়টি থানা-পুলিশকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'
ভিওডি বাংলা/ মো: হুমায়ুন কবির/ আ







