তারেক রহমান
প্রাথমিকের শিক্ষকদের আরও যোগ্য ও দক্ষ করতে চাই

বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে শনিবার দুপুর গুলশানের বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্কে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে তারেক রহমানের পাশাপাশি অংশ নেন তাঁর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন, যাদের মধ্য থেকে জনমত ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়নে ১০ জন বিজয়ী নির্বাচিত হন। এ সময় তারেক রহমান বিজয়ীদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘সবার আগে দেশে উৎপাদন বাড়তে হবে। জনসংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু উৎপাদন বাড়ছে না। উৎপাদনকারী আর ক্রেতাদের মধ্যে একাধিক পক্ষ কাজ করে। এটি স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু অনৈতিকভাবে কেউ লাভ করতে চাইলে সেটি ঠেকাতে হবে। তাছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায়ও দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ে অনেক সময়। কৃষককে প্রণোদনা দেয়ার পাশাপাশি এ বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।’
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় গেলে শিশুদের সঠিক শিক্ষা দেওয়ার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আরো যোগ্য ও দক্ষ করতে কাজ করবেন।’
এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা নিয়ে যে রিলস বানিয়েছেন। ওইখানে আপনারা বলেছেন প্রাইমারি শিক্ষা নিয়ে আমরা কি কাজ করেছি। সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে কিন্তু স্কুলে শেখাতে হবে। এজন্য আমরা প্রাইমারি শিক্ষার ওপর জোর দিতে চাচ্ছি। জোরটা কী, নট মেকিং স্কুল বিল্ডিং, নতুন নতুন চারতলা, পাঁচতলা স্কুল বানানো এইটা আমাদের লক্ষ্য না। বরং আমরা ওই বাজেট দিয়ে আমরা প্রাইমারি শিক্ষকদের মোর কোয়ালিফাই করতে চাচ্ছি, তাদের ট্রেনিং দিতে চাচ্ছি। যে ট্রেনিংটার মধ্যে অ্যাকাডেমিক ট্রেনিং থাকবে, একই সাথে সামাজিক এবং ধর্মীয় যে মূল্যবোধ আছে এই বিষয়গুলোও বাচ্চাদের শেখাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা প্রাইমারি শিক্ষকদের মোর কোয়ালিফাই করতে চাচ্ছি, তাদের ট্রেনিং দিতে চাচ্ছি, যে ট্রেনিংটার মধ্যে অ্যাকাডেমিক ট্রেনিং থাকবে, একই সঙ্গে সামাজিক এবং ধর্মীয় যে মূল্যবোধ আছে, এ বিষয়গুলোও বাচ্চাদের শেখাতে হবে।’
সাইবার বুলিং নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা যদি বাচ্চাদের ছোটবেলা থেকে শেখাই— এইটা সঠিক, এইটা ভুল; এইটা সাদা, এইটা কালো; এইভাবে যদি আমরা বাচ্চাদের শেখাতে পারি, আমার ধারণা একটা পর্যায়ে গিয়ে তাদের মাথায় ঢুকে যাবে কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়।’
নগরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রোড ডিজাইনিং, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম এবং চাকরি; সবকিছু ঢাকা কেন্দ্রীক গড়ে উঠায় ট্রাফিক জ্যাম বাড়ছে। ঢাকার বাইরে স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তুলবো। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুবিধা সেখানে থাকবে। প্ল্যানিং চলছে এ বিষয়ে।’
বিএনপি চেয়েরম্যান বলেন, ‘ফ্লাইওভারে হয়েছে, মেট্রোরেল দেখছি। মেট্রোরেল কস্টলি, জায়গা বেশি নেয়। এক্ষেত্রে মনোরেল সুবিধা। ছোট ছোট বগি এবং মেট্রোর সঙ্গে ঢাকার সব জায়গায় এটিকে কানেক্ট করা যায়।’
প্রবাসীদের জন্য নিজের পরিকল্পনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তরুণরা অদক্ষ অবস্থায় বিদেশ যাচ্ছেন। তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এতে তাদের আয় বাড়বে, দেশে রেমিট্যান্সও বাড়বে। প্রবাসীরা সঠিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠালে তাদের জন্য প্রণোদনা ব্যবস্থা রাখা হবে।’
তারেক রহমান বলেন, সবচেয়ে বড় কথা যে পরিকল্পনাই করি না কেনো, সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি রোধ করতে হবে। এগুলো ঠিক করা গেলে অন্য বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে।’
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







