তানভীর আহমেদ রবিন:
মানুষের অধিকার ও সেবার অঙ্গীকার করে নির্বাচনী প্রচারণার শুরু

মানুষের অধিকার ও সেবার অঙ্গীকার করে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন ঢাকা ৪ (শ্যামপুর-কদমতলী থানা) আসনের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর শ্যামপুর লাল মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু হয়।
নির্বাচন প্রচারণার প্রাক্কালে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, আজকে মসজিদে মসজিদে প্রচারণার এই শুভ সূচনায় আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। সবার আগে আল্লাহ পাকের দরবারে লাখো শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহর ঘর থেকে এই প্রচারণা শুরু করার তৌফিক তিনি আমাদের দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, এক-এগারোর সময় থেকে আমি এই এলাকার মানুষ, এই এলাকার মাটি এবং দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। বিগত বছরগুলোতে দেশের মানুষ, বিশেষ করে এই এলাকার মানুষ সীমাহীন নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। মানুষের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাকে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণও করতে হয়েছে। কিন্তু এই এলাকার মানুষের ভালোবাসা, মুরুব্বীদের দোয়া ও অনুপ্রেরণা এবং আনসার সমাজের সমর্থন আমাকে বারবার সাহস জুগিয়েছে। সেই দোয়াতেই আমি আজ আবার আপনাদের মাঝেই ফিরে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, অনেক সুযোগ ছিল দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার। আপনারা জানেন, আমি দেশের বাইরেও ছিলাম। কিন্তু আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন এই এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার এমন এক আত্মিক বন্ধন তৈরি করেছেন, যেটা ফেলে রেখে চলে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমি সবসময় সাধ্যমতো মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।
এই এলাকার অবহেলিত, গরিব-দুঃখী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য দিন-রাত খিদমত করার তৌফিক যেন আল্লাহ আমাকে দেন-এই দোয়া করবেন তিনি। আমি আপনাদের আমানত, কোনো ভেদাভেদ করব না। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এলাকার মানুষের পাশে থাকব এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করব, ইনশাআল্লাহ।
আমি এই দেশের মাটিতে ইসলামের জন্য কাজ করব আজ থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত, অর্থাৎ আগামী ২০ দিন আমাদের প্রচার-প্রচারণা চলবে। আজ আমি এখানে পৌঁছাতে পেরেছি হাজার হাজার মানুষের ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে। এই ঋণ হয়তো কোনোদিন শোধ করতে পারব না। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি-আমার দ্বারা এলাকার কোনো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, আমরা এই এলাকায় প্রতিশোধপরায়ণ বা প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। আমরা সমাজব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চাই।
যেখানে মুরুব্বী, আলেম সমাজ, জ্ঞানী-গুণী মানুষ, খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, তরুণ যুবক, ছাত্র ও নারীরা-সবাই অংশগ্রহণ করবে। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
আমার শ্রদ্ধেয় মুরুব্বী ও ওলামায়ে কেরামের কাছে অনুরোধ-আমাকে নসিহত করবেন, শাসন করবেন, সঠিক পথ দেখাবেন বলে জানান তিনি। আমার দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ-সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে এই অঞ্চলের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৪ আসনের শ্যামপুর-কদমতলী থানার সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমদ, সাবেক কাউন্সিলর মীর হোসেন মীরু, জুম্মন মিয়া, স্থানীয় মুরুব্বী, আলেম-উলামা, বিএনপির নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ভিওডি বাংলা-সবুজ/জা







