• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ডিএনসিসি:

ঢাকায় বাড়ি ভাড়া ২ বছরের আগে বাড়ানো যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৮ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

প্রতি বছরের শুরুতে রাজধানী ঢাকায় বাড়ি ভাড়া দ্রুত বাড়ছে। তবে ভাড়া বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই, ফলে বাড়ির মালিকরা তাদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ২ বছরের আগে ভাড়া বাড়ানো যাবে না বলে নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গুলশান-২-এর নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “প্রতিটি অর্থবছর অনুযায়ী, ভাড়া বৃদ্ধির সময় হলো জুন-জুলাই। জানুয়ারি মাসে ভাড়া বাড়ানো সাধারণত দেশে প্রচলিত একটি প্র্যাকটিস। যারা জানুয়ারিতে ভাড়া বাড়ানোর কথা ভাবছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, ভাড়া বাড়ানোর সময় নির্ধারিত অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখুন। বাড়ি ভাড়ার ওপর ভিত্তি করে আপনি সিটি করপোরেশনে ট্যাক্স দেন, তাই সেই হারে ভাড়া বৃদ্ধিও হবে।”

এসময় তিনি বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য ডিএনসিসি প্রদত্ত নির্দেশিকা পড়ে শোনান। এই নির্দেশিকায় বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের জন্য প্রধান দিকনির্দেশনা নিম্নরূপ:

বাড়ি অবশ্যই বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে।

বাড়িতে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ ইউটিলিটি সার্ভিসেসের নিরবিচ্ছিন্ন কানেকশন নিশ্চিত করতে হবে। সমস্যা হলে বাড়িওয়ালা দ্রুত সমাধান করবেন। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া (প্রাক অনুমোদন সাপেক্ষে) ছাদ, বারান্দা বা খোলা জায়গায় সবুজায়ন করতে পারবেন।

অগ্নিকান্ড, ভূমিকম্প বা অন্য দূর্ঘটনা প্রতিরোধে বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে ছাদ ও মূল গেইটের চাবি সরবরাহ করবেন শর্তসাপেক্ষে। ভাড়া মাসের ১০ তারিখের মধ্যে প্রদান করতে হবে, এবং প্রতিমাসের জন্য লিখিত রশিদ দেওয়া বাধ্যতামূলক।

বাড়িতে ভাড়াটিয়ার প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে; বাড়ির নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণের পূর্বে ভাড়াটিয়াকে অবগত করতে হবে। মানসম্মত ভাড়া কার্যকরী হবার তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত ভাড়া অপরিবর্তিত থাকবে।

দুই বছরের আগে কোনো অবস্থাতেই ভাড়া বাড়ানো যাবে না। ভাড়া বৃদ্ধির সময় হবে জুন-জুলাই; দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে পরিবর্তন করা যেতে পারে। ভাড়াটিয়া নির্ধারিত সময়ে ভাড়া না দিলে বাড়িওয়ালা মৌখিক সতর্কতা দিবেন, তারপর লিখিত নোটিশের মাধ্যমে ২ মাসের মধ্যে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবেন।

আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে ভাড়া চুক্তি বাতিল করতে দুই মাসের নোটিশ দিতে হবে। মানসম্মত ভাড়া বাজার মূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। ভাড়ার চুক্তিতে অগ্রিম, বাড়ি ছাড়ার সময়, ভাড়া বৃদ্ধি এবং অন্যান্য শর্ত নির্দিষ্ট করতে হবে। ভাড়া নেওয়ার সময় সর্বাধিক ১-৩ মাসের অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে।

সিটি করপোরেশন এলাকায় বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের সমিতি গঠন করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে সমিতির আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে; ব্যর্থ হলে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জানাতে হবে। ভাড়াটিয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন সচেতনতা বৃদ্ধি ও আলোচনার মাধ্যমে নিয়মিত পর্যালোচনা করবে।

ডিএনসিসির এই নির্দেশিকার মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষিত হবে, বাড়িওয়ালাদের জন্যও ভাড়া বৃদ্ধিতে একটি নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি হবে। প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও মানসম্মত ভাড়া নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। এজন্য আমরা উভয় পক্ষের জন্য আইনসঙ্গত এবং ন্যায্য দিকনির্দেশনা প্রদান করেছি।”

নতুন নিয়মে ভাড়া বৃদ্ধির সময়সীমা, চুক্তিপত্রে শর্তাবলী, অগ্রিম ভাড়া, এবং উচ্ছেদ প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় ভাড়াটিয়ারা নির্দিষ্ট সময়ের আগে চাপমুক্তভাবে বাড়িতে বসবাস করতে পারবেন। ডিএনসিসির লক্ষ্য হলো ভাড়া বৃদ্ধিতে স্বচ্ছতা, দ্বিপাক্ষিক ন্যায্যতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঢাকা শহরের বাড়িভাড়া বাজারের ওপর এই নতুন নির্দেশিকা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ভাড়াটিয়ারাও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পাবেন এবং বাড়িওয়ালাদের জন্যও একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে।

ভিওডি বাংলা/জা 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শুক্রবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
শুক্রবার রাজধানীর যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
ঢাকার বাতাস ‘স্বাস্থ্যকর’
ঢাকার বাতাস ‘স্বাস্থ্যকর’
ভোরে অঝোরে বৃষ্টি, ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় পানি
ভোরে অঝোরে বৃষ্টি, ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় পানি