• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান ডিএসসিসি প্রশাসকের আনোয়ারায় সবুজ অবকাঠামো নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আফরোজা আব্বাস স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে: সংসদে মির্জা ফখরুল আদাবর থানার ওসিকে কোপাল ছিনতাইকারীরা, গুলি চালাল পুলিশ অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে মোশাররফ-জুঁই, আসলে যা ঘটেছিল কলকাতায় হত্যা মামলায় জামিন, কারামুক্তির পথে আবুল বারকাত শিশুর মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র আদিতমারী, পুলিশ-সন্ত্রাসী সংঘর্ষে আহত ৩০ ১০ জেলায় সম্প্রসারিত হচ্ছে রেল সেবা: রেলমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নিচ থেকে মাটি সরানো বন্ধ, গাছ লাগানো হবে: সেতুমন্ত্রী

খালেদা জিয়ার নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে: মিলন

পবা (রাজশাহী) প্রতিনিধি    ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:২০ পি.এম.
দামকুড়া ইউনিয়নে খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দেন শফিকুল হক মিলন-ছবি-ভিওডি বাংলা

বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নাম আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন। 

রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের হাজী বাদল উদ্দীন হাফেজিয়া মাদ্রাসার মোড় সংলগ্ন কাদিপুর তাফসীর মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দোয়া মাহফিলটির আয়োজন করে দামকুড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ।

বক্তব্যের শুরুতে মিলন দলের নেতাকর্মী ও পবা উপজেলার জনগণের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, “দেশের ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া একজন মহিয়সী নারী হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর মৃত্যুতে আজ দেশের মানুষ শোকাহত। সারাদেশে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে সীমাহীন ত্যাগ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে গেছেন। অল্প বয়সে স্বামীহারা হওয়া, কনিষ্ঠ পুত্রকে হারানোসহ ব্যক্তিগত জীবনে যে বেদনা তিনি সহ্য করেছেন, তা বিরল। রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে এমন কোনো নির্যাতন নেই যা তিনি সহ্য করেননি।

অ্যাডভোকেট মিলন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং মাত্র ১৫ বছর বয়সে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তিনি অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেন। একজন সেনা কর্মকর্তার পরিবারের সদস্য হিসেবে যুদ্ধকালীন অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়েই তাঁকে জীবন কাটাতে হয়।

তিনি আরও বলেন, “বেগম জিয়া নিজের জীবনের কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সংসার পরিচালনার জন্য তাঁকে মাত্র দুই হাজার টাকা দেওয়া হতো। সততার প্রতীক শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তানরা বাবার পুরোনো পোশাক কেটে তৈরি করা জামা পরতেন। সাধারণ নারীদের মতোই তাঁকেও সংসার চালাতে হয়েছে।”

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মিলন বলেন, মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। এ সময় বেগম খালেদা জিয়া দুই সন্তানসহ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আটক হন এবং দীর্ঘ নয় মাস বন্দিজীবন কাটান। এই সময় তিনি নির্যাতনের শিকার হলেও মনোবল হারাননি।

তিনি বলেন, “এই দীর্ঘ নয় মাসের ত্যাগ ও কষ্টের জন্য বেগম খালেদা জিয়াও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বন্দিজীবন তাঁকে আরও দৃঢ়চেতা করে তোলে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে নিহত হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম সংকট তৈরি হয় উল্লেখ করে মিলন বলেন, সেই সংকটকালে দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং টানা ৪১ বছর নেতৃত্ব দিয়ে দলকে সুসংগঠিত করেন।

তিনি বলেন, “স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তিনি আপসহীন ভূমিকা পালন করেন। কারাবরণ, নির্যাতন-সবকিছু সহ্য করেও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি বলেই তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।”

১৯৯১ সালে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন উল্লেখ করে মিলন বলেন, তাঁর নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। নারীদের শিক্ষা বিস্তার, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনসহ বহু যুগান্তকারী পদক্ষেপ তিনি গ্রহণ করেন।

বেগম খালেদা জিয়ার ওপর চালানো নিপীড়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মিলন বলেন, তাঁর বসতভিটা উচ্ছেদ করা হয়, বুলডোজার দিয়ে বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং কারাগারে অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়। তবুও তিনি দেশের মানুষ ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যান।

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই আন্দোলনের শহীদসহ দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে নিহত সকল নেতাকর্মীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে অসুস্থদের সুস্থতা কামনা করে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন দামকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এনামুল হক কনক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও তত্ত্বাবধান করেন ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নওশাদ আলী।

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য শেখ মকবুল হোসেন, শাজাহান আলী, আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল হালিম, আব্দুস সালাম, যুবদল নেতা মোজাদ্দেদ জামানী সুমনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং এলাকার সাধারণ মানুষ দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
পুলিশের সামনেই আ. লীগের মিছিল, আটক ৪
পুলিশের সামনেই আ. লীগের মিছিল, আটক ৪
নবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ক বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
নবাবগঞ্জে গ্রাম আদালত বিষয়ক বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত
বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণ
বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের মাঝে সার্জিক্যাল কিট বক্স বিতরণ