• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

ডিমের দাম কমেছে, মাছ-মাংস ও মুরগির বাজার স্থিতিশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৪ পি.এম.
ছবি-ভিওডি বাংলা

শীত মৌসুমে নিত্যপণ্যের বাজারে ওঠানামা স্বাভাবিক হলেও, ডিমের বাজারে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমে গেছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারে স্পষ্ট। তবে মাছ ও মুরগির বাজারে এই মুহূর্তে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রায় মাসখানেক আগে এই দাম ছিল ১২০ টাকা। সাদা ডিমের দাম এখন ১২০ থেকে ১২৫ টাকা, আর দেশি হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়।

ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে শাকসবজি ও দেশি মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাহিদার চাপ কমে যায়। ফলে দাম কিছুটা নামেছে। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম বর্তমানে ৮ টাকার নিচে নেমেছে।

রামপুরা বাজারের খুচরা ডিম বিক্রেতা হৃদয় মিয়া জানান, "ডিমের দাম কমলেও বিক্রি তেমন বৃদ্ধি পায়নি। বাজারে এখন মাছ ও সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় ক্রেতারা কম পরিমাণে ডিম কিনছেন। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না।"

মাংস ও মুরগির বাজার স্থিতিশীল
গরু ও খাসির মাংসের দামেও বড় পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির মাংস ১,২০০ টাকায় কেজিতে। ক্রেতাদের মতে, দাম অপরিবর্তিত থাকলেও নাগালের বাইরে।

মুরগির বাজারেও বড় কোনো ওঠানামা নেই। ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, সরবরাহ ও চাহিদা প্রায় সমান থাকায় দাম স্থিতিশীল।

বনশ্রী এলাকার মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, "শীতকালে খামারিরা মুরগি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চান না। নিয়মিত বাজারে মুরগি আসছে, আবার চাহিদাও বড় নয়। তাই দাম পরিবর্তন হচ্ছে না।"

কিছু ক্রেতা মনে করছেন, মুরগির দাম আরও কমার সুযোগ আছে। আব্দুল ওয়াদুদ নামের এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, "বছরের শুরুতে ব্রয়লার ১৫০–১৬০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন দাম কমছে না কেন, তা বোঝা যায় না। দোকানে মুরগির ঘাটতি চোখে পড়ে না।"

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া অবস্থায় রয়েছে। সরবরাহ থাকলেও দামে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। বাজারে কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।

চাষের মাছের মধ্যে পাঙাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে আজকের বাজারে ইলিশের দামও চড়া রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আল মামুন জানান, "মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ নেই। যে দাম বলা হয়, সেই দামে কিনতে হয়। ডিমের দাম কমেছে, সেটা ভালো। তবে মাছের দামে কোনো স্বস্তি নেই, বাজেট মিলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।"

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এপ্রিলের ২৯ দিনে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল প্রবাসী আয়
এপ্রিলের ২৯ দিনে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল প্রবাসী আয়
বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে জ্বালানির বাড়তি দাম
মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে জ্বালানির বাড়তি দাম