এলাকার উন্নয়নের সূচনা খালেদা জিয়ার হাত ধরে-ই: রবিন

এই এলাকার সকল উন্নয়নের সূচনায় বেগম খালেদা জিয়াকে খুঁজে পাওয়া যায়-এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৬১ নম্বর ওয়ার্ড নয়াপাড়া পঞ্চায়েতের আয়োজনে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন তিনি।
এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগকে স্বরণ করে বলেন, দেশের মানুষকে তিনি আপন করে নিয়েছিলেন। ছোট্ট পরিবার ভুলে দেশকে পরিবার মনে করেছে। যার ফলাফল স্বরূপ আমরা দেখেছি তার জানাজায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপস্থিতি, দেশের প্রতিটি মসজিদে তার জন্য দোয়া হয়েছে। আজকে দেশের প্রতিটা মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে এটা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অনেক বড় অর্জন।
তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-৪ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পরই তৎকালীন ঢাকা-৪ এর সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বেগম জিয়া আমাদের এই এলাকা গ্রাম থেকে শহরে রূপান্তরের পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেন। শনির আকড়া আন্ডারপাস না হলে আমাদের চলাচলে কত সমস্যা হতো তা আপনারা বেশি ভালো জানেন। মা-বোনেদের চিকিৎসার জন্য মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালে স্থাপন করেন। বেগম খালেদা জিয়ার ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারবো না, বিশেষ করে এই এলাকাবাসী।
নির্বাচনী এলাকার মানুষের ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি বলেন, আপনারায় আমার শেষ আশ্রয়স্থল।
বেগম খালেদা জিয়া এই এলাকার মানুষকে কখনো ভুলে যান নি। তিনি সবসময় আমাদের মনে রেখেছেন, যেমন তাকে আপনারা আগলে রেখেছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া স্বেচ্ছায় নয় বরং জনগণের অনুরোধে রাজনীতিতে আসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী এরশাদের শাসন আমলে যখন সকল দল নির্বাচন বর্জন করে দূরে সরে আসে তখন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা ও জামায়াতে ইসলাম বেইমানি করে পাতানো নির্বাচনে অংশ নিলেও ওই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি বেগম জিয়া, তখন থেকেই তিনি হন আপোষহীন নেত্রী।
জিয়া স্বরণী খাল খনন বেগম জিয়া নিজে এসে ১৯৯১ সালে শুরু করেন। যার ফলে পরিবর্তন হতে থকে এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার। আমার স্পষ্ট মনে আছে বাবা কোন কিছু প্রয়োজন হলে কোন মন্ত্রীর দিকে না তাকিয়ে সরাসরি বেগম জিয়ার কাছে চলে যেতেন এবং বেগম জিয়া সরাসরি নিজ তত্ত্বাবধানে কাজ সম্পন্ন করতেন।
শ্যামপুর সরকারী মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজসহ ১১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল ঢাকা-৯ আসন মীর্জা আব্বাসের এলাকায়, তখন তৎকালীন সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ এর অনুরোধে বেগম খালেদা জিয়া সেগুলো ঢাকা-৪ এ প্রতিষ্ঠা করেন। যা পরবর্তীতে এই এলাকার ছেলে মেয়েদের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নয়াপাড়া বর্ণমালা স্কুলটি প্রতিষ্ঠাকালে ছিলো টিনের ঘর যা এটা এখন বিল্ডিং হয়েছে তবে এই বিদ্যালয়ের জন্য আমার বাবার কিনে রাখা জমি রাখিনি ফ্যাসিস্ট ও তার দোষররা
ক্রয়কৃত জমি হাসিনা সরকার বিক্রি করে খেয়েছে।
এই এলাকার ভালো রাস্তা ছিল না, পানির পাম্প, গ্যাস লাইন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। আজ এখনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভাব নেই। অগণিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থপন করেছেন সালাউদ্দিন আহমেদ আমাদের কথা ভেবে। যার প্রত্যেকটির সূচনা হয় বিএনপি শাসনামলে। ঢাকায় যেমন বেইলি রোড আছে, আমাদের ও বর্ণমালার এই রাস্তা আছে। আশেপাশের মানুষ এসে এখানে অর্থ ব্যায় করে তা আমাদের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখে।
আমাদের এলাকায় অনেক সমস্যা, কঠোর পরিশ্রমী বৃহৎ এই এলাকার মানুষের জন্য নেই কোন সরকারি হাসপাতাল সুবিধা, পারিবারিক, সামাজিক উৎসব করতে নেই কমিনিটি সেন্টার, নয়টি সিটি করপোরেশনের একটিতেও খেলার মাঠ নাই, আমাদের ছেলেরা স্কুল থেকে এসে হয় রাস্তায় ঘুরছে ও মাদকাসক্ত হচ্ছে ৷ নামে শহর আসলে শহরের কোন সুবিধা পাই না। আমরা নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স দিয়েছি, না দিলে ফাইন আর জেল হয়েছে। কিন্তু আমরা গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধা প্রয়োজন অনুযায়ী পাচ্ছি না।
এলাকার প্রতিটি বিষয়ের জন্য প্রতিনিয়ত হয়েছে অর্থ বরাদ্দ। নিয়মিত মেইনটেইনেন্স করার জন্য রাখা আছে লোক তবে নিজেদের কাজ তারা সঠিকভাবে পালন করেনি। শুধু শেখ হাসিনা নয় তার মন্ত্রী, আমলা সকলে মিলে সব লুটে খেয়েছে। অনেক শিল্পকারখানা ছিলো আমাদের এলাকায় যেগুলো বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কারণে বন্ধ হয়েছে ইতোমধ্যে, যা ২০০১ থেকে ২০০৬ সচল ছিল তার ১০ ভগের এক ভাগ ও এখন সচল নেই।
আমাদের এলাকার নারীরা কেউ শখে ঘর থেকে বের হয় না, জীবনের তাগিদে বের হয়, তাদের সুযোগ তো নেই-ই আর না আছে নিরাপত্তাও। সরকারি যে সকল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে তা আমরা পাই না, স্থায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো যেন এলাকার সকলে সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে পারে, অর্থনীতির স্বচ্ছতা আসে।
দেশের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার আত্ম ত্যাগের বর্ণনা দিতে গিয়ে রবিন বলেন, তিনি এমন একজন মানুষ ছিলেন, যার রক্তের প্রতিটি বিন্দুতে ছিল দেশপ্রেম। ফ্যাসিবাদের নির্মম অত্যাচার, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু, তারেক রহমানের উপর অমানবিক নির্যাতন সবকিছু ভুলে তিনি বার বার বলেছেন ঐক্য গড়তে হবে। আমি আমার নেত্রীর কথায় কথা মিলিয়ে বলতে চাই প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে সকলে মিলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। আর যার সারথি হবেন আপনারা।
এসময় দোয়া মাহফিলে বিশেষ হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য হাজী মো. জুম্মন মিয়া, মো. জাফর আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন ৬১ নম্বর ওয়ার্ড, বিএনপির আহ্বায়ক হাজী মো. শাহ্ আলম।
ভিওডি বাংলা-সবুজ/জা







