• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই হাঁটবো: রবিন

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৫ পি.এম.
ঢাকা–৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন। ছবি-সংগৃহীত

ঢাকা–৪ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেছেন, ‘আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথে হাঁটবো। মানুষের উপকার করতে না পারলে অন্তত ক্ষতি করবো না। শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক সমাজ গড়তেই আমি রাজনীতি করি।’

তিনি বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপার্সন নন তিনি দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার এক অবিস্মরণীয় প্রতীক। সীমাহীন নির্যাতন, কারাবাস ও ব্যক্তিগত ত্যাগের পরও তিনি কখনো দেশের মানুষকে ছেড়ে যাননি বলেই আজও তিনি দেশের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার আসনে অধিষ্ঠিত।’

সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানী আলমবাগে শ্যামপুর থানার ৫৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগ বিএনপি'র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলে তিনি সব কথা বলেন। 

রবিন বলেন, ‘আমার জীবনে দুইবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। প্রথমটি ছিল এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময়, দ্বিতীয়টি ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে। শৈশব ও কৈশোরের অনেক স্মৃতি আজ হারিয়ে গেছে, কিন্তু দেশনেত্রীর স্নেহ, ভালোবাসা ও পরামর্শ আজও আমার মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে।’

শ্যামপুর–ডেমরা–যাত্রাবাড়ী অঞ্চলের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে তানভীর আহমেদ বলেন, এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় বেগম খালেদা জিয়া বহুবার শ্যামপুর এলাকার আমাদের বাড়িতে এসেছেন। সে সময় থেকেই এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁর এক আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে এলাকার সালাউদ্দিন আহমেদ বিএনপির নেতৃত্বে আসেন এবং বেগম জিয়ার হাত ধরেই এই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন, তখন এই এলাকার সন্তান সালাউদ্দিন আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এলাকাবাসীর যে কোনো দাবি নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে গেলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিতেন। সঙ্গে সঙ্গেই কাজ শুরু হয়ে যেত।

উন্নয়নের সূচনা বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এক সময় শ্যামপুর, কদমতলী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী ও মাতুয়াইল ছিল অবহেলিত জনপদ। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছাড়া তেমন কোনো রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি হাসপাতাল ছিল না। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার আশীর্বাদ ও দিকনির্দেশনায় এই অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৬ সালের শেষ দিকে খালেদা জিয়া নিজে ডেমরা ব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। মাতুয়াইলে মা ও শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। সে সময় তিনি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর খন্দকার মোশাররফ হোসেন কে সরাসরি নির্দেশ দেন, যার সুফল আজও এ অঞ্চলের মা-বোনেরা পাচ্ছেন।

এছাড়া জিয়া স্মরণী খাল খনন ও খালের পাশের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই শুরু হয়। আজ যে এলাকায় ঘনবসতি, ব্যবসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে তার ভিত্তি স্থাপন হয়েছিল সেই সময়েই।

তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল যেখানে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে অসুস্থ অবস্থায় মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর জেলে রাখা হয়, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়, গৃহবন্দী করে রাখা হয়।

তানভীর রবিন স্মরণ করেন, গুলশান কার্যালয়ে বন্দী অবস্থায় বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু এবং সেই ঘটনাকে ঘিরে ফ্যাসিস্ট সরকারের অমানবিক আচরণ। তবুও বেগম খালেদা জিয়া কখনো প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি করেননি।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কখনো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটুক্তি করেননি। বরং সর্বশেষ বার্তায় তিনি দেশ পুনর্গঠনের জন্য ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, সহনশীলতা ও শান্তির রাজনীতির কথা বলেছেন।

তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নে মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও যুব বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেন। খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি, উপবৃত্তি প্রদানসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের এলাকা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। নেই খেলার মাঠ, নেই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, নেই কমিউনিটি সেন্টার। জলাবদ্ধতা, বেকারত্ব, মাদক ও কিশোর গ্যাং আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এর থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপি ছাড়া বিকল্প নাই।

তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন, বিএনপির কেউ মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী বা কিশোর গ্যাংকে আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকার শাসনব্যবস্থা হবে অংশগ্রহণমূলক যেখানে মুরুব্বি, আলেম, নারী, তরুণ ও খেটে খাওয়া মানুষ সবাই থাকবে।

তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, আমি প্রতিহিংসার রাজনীতি করবো না। বেগম খালেদা জিয়ার দেখানো পথে হাঁটবো। মানুষের উপকার করতে না পারলে অন্তত ক্ষতি করবো না। শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবিক সমাজ গড়তেই আমি রাজনীতি করি।

৫৪ নং ওয়া বিএনপির সভাপতি জামান আহমেদ পিন্টুর সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য তোফায়েল আহমেদ, বিএনপি শ্যামপুর থানার সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ঢালি, সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সেলিম, শ্যামপুর থানা মহিলা দলের সভানেত্রী নাসরিন সুলতানা, কদমতলী থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল গাজী, সাবেক কাউন্সিল হাজী মোঃ মোজাম্মেল সহ প্রমুখ।

ভিওডি বাংলা/সবুজ/ এমএইচ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবাই বিনামূল্যে ইন্টারনেট পাবেন
মাহদী আমিন: বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবাই বিনামূল্যে ইন্টারনেট পাবেন
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
ইশরাক হোসেন: সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে জুলাই-হাদি হত্যার বিচার হবে
নাহিদ ইসলাম: ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে জুলাই-হাদি হত্যার বিচার হবে