নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গুপ্তহামলা, হত্যা, ককটেল নিক্ষেপ এবং গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। একাধিক নির্বাচন কার্যালয়ে আগুন দিয়ে নথিপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা কোথাও কোথাও আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীতে প্রকাশ্যে গুলি করা হয় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। হাদিকে গুলি করার পর প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এরপর নির্বাচন সামনে রেখে এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রার্থীদের নিরাপত্তায় আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার নতুন নীতিমালা জারি করে সরকার। আগে সব নির্বাচনে যেকোনো বৈধ অস্ত্র জমা নিয়ে নিত সরকার। কিন্তু এবার হচ্ছে উল্টো। দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ এরই মধ্যে নিরাপত্তা, গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন।
এদিকে দেশের চলমান অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে গতকাল রোববার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন, যৌথবাহিনীর কার্যক্রম, নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখাসহ বেশ কিছু বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধে যৌথ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে গতকাল নির্বাচন কমিশনও (ইসি) বৈঠক করেছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমনে যৌথবাহিনীর কার্যক্রম এবং আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখাসহ বেশ কিছু বিষয় ছিল আলোচ্য সূচিতে। ভোটের পরিবেশ বিঘ্ন করে এমন অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোসহ যৌথ বাহিনীর অভিযান চালানোর বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে ইসির। শিগগির গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আলাদা বৈঠকের কথা বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো বলছে, ভোটের আগে প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বৈধ যেসব অস্ত্র এখনও বেহাত, তা কীভাবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত উদ্ধার করা যায় সেই ছক করা হয়েছে। আবার সীমান্ত দিয়ে যাতে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। দাগী ও চিহ্নিত অপরাধীরা যাতে সীমান্ত দিয়ে পালাতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসির বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, “সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে মাঠ পর্যায়ে যৌথ বাহিনীর অভিযান আবার চালুর নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।”
তিনি বলেন, “যৌথ বাহিনীর অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য হবে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় নিয়ে আসা। সাধারণ মানুষ, ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে আস্থার পরিবেশ তৈরি করা আমাদের লক্ষ্য। এলাকাভিত্তিক চেক পয়েন্টে তল্লাশির ওপর গুরুত্ব ও বিশেষ অভিযান পরিচালনার ব্যাপারে জোর দেন এ কমিশনার। সন্ত্রাসীদের আটক করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগের ব্যাপারে জোর দিয়েছি। ম্যাজিস্ট্রেটরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।”
এ দুটি বৈঠকের পর বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিনিধি নিয়ে বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি মানবিক দিক বিবেচনায় রেখে কাজ করার নির্দেশনা ছিল। তবে অনেক মানুষ এই ভালো উদ্যোগের খারাপ সুযোগ নিয়েছেন। তাই নির্বাচন কমিশন এখন বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা মানবিক হব, যারা মানবিক তাদের প্রতি। যারা দস্যুতা করতে চায়, নৈরাজ্য করতে চায়, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই।
ভিওডি বাংলা/ এমএম/ এমএইচ





