• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

অস্ত্র হাতে গুলি ছোঁড়া যুবক জামায়াত কর্মী : পুলিশ

পাবনা প্রতিনিধি    ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৪ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে গুলি ছোঁড়া সেই যুবক জামায়াতের কর্মী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুর নূর রোববার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সংঘর্ষের দিন অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া যুবক তুষার মন্ডল জামায়াতের কর্মী। তার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তবে এখনো তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি; পুলিশ তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে।’

তুষার মণ্ডল ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তুষার পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

এদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা পাল্টাপাল্টি দুই মামলায় উভয়দলের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের দু’জন এবং বিএনপি’র তিনজন কর্মীকে আটক করা হয়। রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আব্দুর নূর বলেন, “দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মামলা করেছে। দুই পক্ষের মামলার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আসামিদের গ্রেপ্তার করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।”

এর আগে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের ঘটনায় শনিবার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে পাল্টাপাল্টি দু'টি মামলা দায়ের করা হয়।

সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বাঁধন হাসান আলিম বাদি হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়া ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনাম ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। এই মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির এবং পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডল কে।

অপরদিকে, ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদি হয়ে একই থানায় ৩৮ জন বিএনপির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে অপর মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে। এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগই পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় এবং অনুসারী।

পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর একটি নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াত-বিএনপি'র মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক নেতাকর্মী সমর্থক আহত হন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপির-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন।

ভিওডি বাংলা/ এমএইচ


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভাঙ্গুড়ায় মাদক সেবনের অপরাধে ১জনের কারাদণ্ড
ভাঙ্গুড়ায় মাদক সেবনের অপরাধে ১জনের কারাদণ্ড
প্রতিবন্ধীরা সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ: মিলন
প্রতিবন্ধীরা সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ: মিলন
টাঙ্গাইলে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন
টাঙ্গাইলে ‘মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন