আদালত অবমাননার অভিযোগ
বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানকে ট্রাইব্যুনালে তলব

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ট্রাইব্যুনাল তার ওকালতির সার্টিফিকেট ও আইন প্র্যাকটিস সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে চায়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হয়। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম।
একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘উনি কি অ্যাডভোকেট নাকি?, ওকালতির সার্টিফিকেট আছে?, কোর্ট-কাচারিতে আসছে কোনোদিন। এলে এমন কথা কোনোদিনও বলতেন না।’
প্রসিকিউটর তামিম বলেন, উনি (ফজলুর রহমান) সবসময় একটু বাড়িয়ে বলেন। উনি নাকি ৪৪ বছর ধরে আইন পেশায় রয়েছেন। কিন্তু আমরা ঘেঁটে দেখেছি তিনি ১৯৯২ সাল থেকে প্র্যাকটিস করছেন। সে হিসাবে ৩৩ বছর।
তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, উনি কি আসলেই প্র্যাকটিস করেন। প্র্যাকটিস করলে তো এমন কথা বলতে পারেন না।
একপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আইনের সমালোচনা করা যাবে। রায়ের সমালোচনা করা যাবে। বিচারকেরও সমালোচনা করা যাবে। কিন্তু রায় মানি না; এটা বলা শুধু আদালত অবমাননাই নয়, রাষ্ট্রদ্রোহিতাও।
পরে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে শোকজ জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-১। অর্থাৎ শেখ হাসিনার রায় ঘিরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে আগামী ৮ ডিসেম্বর তাকে সশরীরে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তার প্রাতিষ্ঠানিক ও বার সনদ আনতে বলা হয়েছে।
এর আগে, ২৬ নভেম্বর বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। গত ২৩ নভেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের মুক্তবাক: রাজনীতির তর্ক-বিতর্ক টকশোতে অতিথি হয়ে যান ফজলুর রহমান। টকশোর একপর্যায়ে শেখ হাসিনার রায় প্রসঙ্গ আসতেই নানান কথা বলেন তিনি। ৪৯ মিনিটের টকশোটি পেনড্রাইভের মাধ্যমে এরই মধ্যে ট্রাইব্যুনালে জমা দিয়েছে প্রসিকিউশন। ট্রাইব্যুনালেও ফজলুর রহমানের বক্তব্যের কিছু অংশ বাজিয়ে শোনানো হয়।
ভিডিওতে ফজলুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, আমি প্রথম দিন থেকেই বলছি এই কোর্ট মানি না। তখন উপস্থাপক বলেন, তাহলে কি আমরা শুনতে পাইনি। মিডিয়া কি জানতে পারেনি।
ফজলুর রহমান বলেন, সবাই জানে। জানবে না কেন। আমার ইউটিউব শোনেন। আমি এই কোর্ট মানি না। এই কোর্টের বিচার মানি না। ইউটিউবে বলেছি, টকশোতে বলেছি। যদি না বলে থাকি এখন বললে আমার ভুল আমার মাফ চাইবো প্রতিদিন বলছি এই বিচার আমি মানি না। এই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না। এই কোর্টের গঠনপ্রক্রিয়া বলে এই কোর্টে বিচার হতে পারে না।
প্রসিকিউশনের সবাই শিবির সমর্থিত বলেও টকশোতে দাবি করেন জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী।
ট্রাইব্যুনাল আইন না বুঝেই ফজলুর রহমান এসব মন্তব্য করেছেন বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। ফজলুর রহমানের আর কোনো পরিচয় আছে কিনা জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। পরে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী বলে জানানো হয়। জুলাই বিপ্লব নিয়ে মন্তব্য করায় বিএনপি আগেও তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল বলে জানান প্রসিকিউশন।
ফজলুর রহমান টকশোতে বলেন, “আমি প্রথম দিন থেকেই এই কোর্ট মানি না। এই বিচার হতে পারে না।” প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তিনি আরও বলেছেন যে ট্রাইব্যুনাল ১৯৭১ সালের রাজাকারদের বিচার করার জন্য গঠিত। ট্রাইব্যুনাল সঠিক তথ্য তুলে ধরেছে যে আইন ১৯৭৩ সালে প্রণীত হয় এবং ১৯৭৩ সালের আগে ও পরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা যায়।
সবশেষ ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে এসব অভিযোগ গুরুতর মন্তব্য করেন ট্রাইব্যুনাল। তাই চেয়ারম্যানের নেতৃত্বাধীন এ বিষয়ে শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফজলুর রহমানের ব্যাখ্যা শুনতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
অতএব, ট্রাইব্যুনাল-১ ফজলুর রহমানকে আদালত অবমাননার অভিযোগে শোকজ করেছে। তাকে আগামী ৮ ডিসেম্বর সশরীরে হাজির এবং প্রাতিষ্ঠানিক ও বার সনদ জমা দিতে বলা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







