• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

নির্বাচন দিয়ে দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করতে হবে- মির্জা ফখরুল

   ১ জানুয়ারী ২০২৫, ০৬:২৬ পি.এম.

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে এই সংকট থেকে উদ্ধার করতে হবে।

বুধবার (১ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালে অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

তিনি বলেন, ন্যূনতম যে সংস্কারগুলো করার সেগুলো শেষ করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। যে সংকট তা সমাধান হতে পারে নির্বাচনে মধ্যদিয়ে। চক্রান্ত আবার শুরু হয়েছে। বিএনপিকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা বহুবার হয়েছে, কিন্তু ভেঙে ফেলতে পারিনি। বিএনপি রাজনীতি এদেশের জনগণ রাজনীতি। 

সংস্কারের মধ্যদিয়ে বিএনপি জন্ম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন। বাকশাল থেকে মুক্ত করে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এনেছেন। আমরা মনে করি, সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কার আনতে হবে। সংস্কারের নাম করে এমন কিছু হতে দিতে পারি না, যেটা আমাদের গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করবে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আশা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, 'তারা ( অন্তর্বতী সরকার) ন্যূনতম যে সংস্কারগুলো করা দরকার, একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা ক্ষেত্রে , যেখানে সবার অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য হবে। যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, এ সংকটের একমাত্র সমাধান হতে পারে সবার গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। 

তিনি বলেন, আমরা বারবার বলছি, দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে আবার চক্রান্তের খেলা শুরু হয়েছে। যে চক্রান্তের খেলার কারণে আমাদের নেত্রীকে ৬ বছর জেলে থাকতে হয়েছে, এখনো আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশের বাইরে থাকতে হচ্ছে। সেই চক্রান্ত আবার শুরু হয়েছে। যারা বাংলাদেশে বিশ্বাসী, যারা জোর গলায় বলতে পারে 'সবার আগে বাংলাদেশ ' সেই দলের নেতাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। ইতিহাসে এ ঘটনা বহুবার হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এই চক্রান্তকে কখনো সমর্থন দিবে না। বিএনপিকে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা বহুবার হয়েছে, কখনোই ভেঙ্গে ফেলা সম্ভব হয়নি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একজনকে বের করতে পারলে দুইটা লোককে তারা সরিয়ে নিতে পারেনি। কারণ বিএনপি যে রাজনীতি , এটা হচ্ছে এ দেশের মানুষের জনগণের রাজনীতি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে সময়ের প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কার আনতে হবে। তাই বলে, সংস্কারের নাম করে আমরা এমন কিছু হতে দিতে পারি না, যেটা আমাদের গণতন্ত্রকে বিঘ্নিত করবে। অন্তবর্তী সরকারকে আহ্বান করে তিনি বলেন, কাল বিলম্ব না করে এ সংকট থেকে মুক্ত করতে অতিদ্রুত নির্বাচন ব্যবস্থা করুন। 

ছাত্রদলকে ভ্যানগার্ড আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, 'আমাদের সামনের যোদ্ধা তারা, ছাত্রদলকে এখন নলেজ বেস পলিটিক্স করতে হবে, জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি করতে হবে। আমাদেরকে একটা সাইবার ওয়ার্ক করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাদের অবস্থান সবচেয়ে বেশি রাখতে হবে। এটা যদি আমরা না করতে পারি তাহলে এ যুদ্ধে আমরা হারিয়ে যাব। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাক্টিভিটিস বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন তিনি বলেন, দেশ ও দেশের বাহিরে ষড়যন্ত্র চলছে এর বিরুদ্ধে আমাদেরকে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমাদের মেধা মন দিয়ে তাদেরকে পরাজিত করতে পারব বিশ্বাস রাখি।

সভাপতির বক্তব্য রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, জুলাই আগস্টের গনঅভ্যুত্থানে সফল হয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের রক্তের ওপর দিয়ে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার সময়ে ক্যাম্পাসে কোথাও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের থাকতে দেওয়া হয়নি। আগামী দিনে সারাদেশের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নতুন ধারা রাজনীতি চালু করবে। কোথাও চাঁদাবাজি ও দখলবাজি থাকবে না। বক্তব্য শুরুতে ছাত্রদলের গুম-খুন ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণ করেন।

স্বাধীনতার পর নতুন বাংলাদেশ বির্নিমাণে ভুমিকা রেখেছে ছাত্র বলে মন্তব্য করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, গত ১৬ বছর বিদেশ থেকে আন্দোলনে সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত তারেক রহমান। তার নেতৃত্বে আন্দোলনে স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে দেশছাড়া হয়েছেন। এখনো দেশে সামনে টুকটাক ষড়যন্ত্র করছে ভন্ড প্রতারকরা, বিপদ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। তাই ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে। 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, গনঅভ্যুত্থানে শামিল হয়েছে বাংলাদেশের ছাত্র সমাজ। গন্যঅভ্যুত্থানের পর পৃথিবীর সব দেশের নির্বাচন হয়। সংস্কার বছরের পর বছর ধরে সংস্কার চলমান। তাই যারা উল্টোপাল্টা কথা বলেন তাদের ইতিহাস পড়া দরকার। এসময় পাকিস্তান ও শ্রীলংকার উদাহরণ দেন তিনি। গণঅভ্যুত্থান করেছে দেশের জনগণ।  সুতরাং নির্বাচনের বিকল্প নেই।

অন্তর্বর্তী সরকার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতার উদ্দেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ২৪ থেকে ২৫ পর্যন্ত এক বছর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তরুণ প্রজন্ম। গোটাদেশ তাকিয়ে আছে ছাত্রদের দিকে। কেন হঠাৎ করে মার্চ ফর ইউনিটি? আপনার তো বিএনপি মহাসচিবসহ সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে জাতীয় ঐক্য করেছিলেন? জাতীয় ঐক্যর আহ্বান জানিয়ে আপনার যখন মার্চ ফর ইউনিটির কথা বলেন তখন আমাদের কষ্ট লাগে? আপনারদের শুভ বুদ্ধির উদয় হওয়ার দরকার। কার স্বার্থে মার্চ ফর ইউনিটি করছেন? আমাদের বৃহত্তর স্বার্থে শেক হাসিনার বিচার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। আমরাও ঐক্য চাই, শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার আমরাও চাই। জাতীয় ঐক্যর ভিত্তিতে গনতান্ত্রিক বাংলাদেশ বির্নিমিত হবে।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন,  কেউ কৈউ বলেছে আগে সংস্কার পরে নির্বাচন। আরে সংস্কার তো চলমান প্রক্রিয়া। গনতন্ত্র না থাকলে সংস্কার হয় কিভাবে? দেশের জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। নির্বাচন নিয়ে ছিনিমিনি খেললে তার পরিনাম ভয়াবহ হবে।  

ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুর থেকে প্লাকার্ড, ব্যানার হাতে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে আলোচনা সভায় যোগ দেন। বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা নানা রংবেরঙের ব্যাজ, টুপি-গেঞ্জি পরে ছিলেন। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের বাইরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নিহত ছাত্রদলের প্রথম শহীদ চট্টগ্রাম মো. ওয়াসিম আকরাম, মো. সবুক মিয়া, আরিফুর রহমান রাসেলসহ নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ব্যানার দেখা গেছে। এছাড়াও বিগত আওয়ামী লীগের আমলে গুম হওয়া ছাত্রদলের সাবেক নেতা ইলিয়াস আলী, নুরুজ্জামান জনি, মাহাবুবুল হক বাবলু, আবু তাহের দাইয়া, সাজেদুল ইসলাম সুমন, আমিনুল ইসলাম জাকির ফিরিয়ে দেওয়া দাবিতে ব্যানার দেখা গেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত-জনতার আন্দোলনে ছাত্রদলের নিহত ১৪২ জনের নামে তালিকার বই প্রকাশ করে সংগঠনটি।
দিনটি উপলক্ষে এদিন সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করেছে।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, যুবদলের সভাপতি আবদুর মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আহসান রাজিব, সাবেক ছাত্রদল নেতা কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুমসহ সংগঠনটি অসংখ্য নেতাকর্মী।


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই