• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

শাহজালাল মাজারে ভক্তদের ঢল

সিলেট প্রতিনিধি    ৮ মে ২০২৬, ০৭:০৬ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে গিলাফ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে ওরস শুরু হয়েছে ৭০৭তম ওরসের মূল আনুষ্ঠানিকতা। গিলাফ দিতে মাজারে ভীড় জমান হাজারো হাজারো ভক্ত অনুরাগী।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল থেকেই মাজারে গিলাফ দেওয়া শুরু করেন ভক্তরা। এসময় ‘লালে লাল, বাবা শাহজালাল’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে মাজার প্রাঙ্গণ। 

আজ শুক্রবার (৮ মে) ভোরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী ওরসের কার্যক্রম। শেষ সময়ে ভক্ত অনুরাগীদের মধ্যে শিরনি বিতরণ করা হয়।

শাহজালাল মাজার সূত্র জানা যায়, শুক্রবার সকালে প্রথমে মাজার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গিলাফ পরিবর্তন করা হয়।  পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকেও গিলাফ প্রদান করা হয়।  এরপর ভক্ত-আশেকানরা পর্যায়ক্রমে গিলাফ ছড়াতে মাজারে প্রবেশ করেন।  সন্ধ্যা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলে।

সজেমিনে দেখা গেছে, ওরস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো হাজারো ভক্ত-অনুরাগী মাজারে ভিড় জমান। অনেকে গিলাফ, শিরনি ও নানা উপঢৌকন নিয়ে মাজারে আসছেন। সকাল থেকেই মাজার প্রাঙ্গণ, আশপাশের সড়ক ও প্রবেশপথে মানুষের ঢল নেমেছে। ওরস উপলক্ষে মাজার এলাকায় জিকির, কোরআনখানি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত ছিল। তবে প্রতিবছরের মত গান বাজনা না থাকায় ভক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মাজারের পশ্চিমে ঝর্ণাপ্রান্তে দেখা যায়নি মরমি গানের কোনো কাফেলা। 

সুনামগঞ্জ থেকে আসা ভক্ত তাহির আলী বলেন, ওরসে আমরা জালালী গান গাওয়ার সুযোগ পাইনি। ওরস তো ওয়াজ মাহফিল নয়। এখানে ভক্তরা কেন ভক্তিমূলক গান গাওয়ার সুযোগ পাবে না?

ঢাকা থেকে আগত দরগার ভক্ত সোহেল মিয়া বলেন. ওরস মানেই ভক্তদের মিলনমেলা। এখানে জিকির, গিলাফের পাশাপাশি জালালী গানও ঐতিহ্যের অংশ। এছাড়া মাজারে গান-বাজনা বন্ধ করে দিলে ওরসের চিরচেনা পরিবেশ অনেকটাই হারিয়ে যায়। আমরা চাই আগের মতো আয়োজন ফিরে আসুক।

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের খাদেম সামুন মাহমুদ খান বলেন, সকালে গিলাফ ছড়ানোর মধ্য দিয়ে উরশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। উরশে শতাধিক গরু ও খাসি দান করেছেন ভক্তরা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকেও দেয়া হয়েছে একটি গরু। বুধবার রাতে গরু যবেহ করা হয়। যা দিয়ে প্রস্তুত করা হয় আখনি। যা শিন্নি হিসেবে বাদ ফজর ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। রাত সাড়ে ৩টায় আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে উরসের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন দরগাহ-ই-হযরত শাহজালাল (রহ)-এর মোতাওয়াল্লি ফতেউল্লাহ আল আমান।

তিনি আরও বলেন, উরসে আগত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া মেডিকেল টিমের পাশাপাশি ইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের আলাদা টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

দরগার ভক্ত সিলেটের নাগরিক আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল করিম কিম বলেন, চিরাচরিত প্রথায় এই উরশ উদযাপিত হয়ে আসছে। ‘লালে লাল শাহজালাল’ ধ্বনিতে গিলাফ নিয়ে আসা ভক্তদের মিছিলে সিলেট নগরী আজ প্রকম্পিত ছিল। জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে শাহজালাল (রহ)-এর উরশ এক লৌকিক উৎসব। এ উৎসবে ভক্তরা প্রাণের টানে অংশগ্রহণ করেন।

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
১০৮টি হজ ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছেছেন ৪৩০১৯ হজযাত্রী
১০৮টি হজ ফ্লাইটে সৌদি পৌঁছেছেন ৪৩০১৯ হজযাত্রী
সৌদি পৌঁছেছেন ৪০১৭৭ জন হজযাত্রী
২৬ মে হজ সৌদি পৌঁছেছেন ৪০১৭৭ জন হজযাত্রী
ইসলামে শ্রম ও সহকর্মীর মূল্য
ইসলামে শ্রম ও সহকর্মীর মূল্য