যারা মনে করছেন ভোটের জন্য পরিবর্তন হয়নি; এটা ভুল- আবদুস সালাম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তী সরকার আগামী নির্বাচন অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে দেবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আবদুস সালাম বলেছেন, ‘জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এই দেশের মালিক জনগণ। জনগণ যে মালিক সেটা প্রমাণ হয় যখন সে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করে। সেই মালিকানা ছিনতাই করেছিলো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। সেই মালিকানা দেশের জনগণ ফিরে পেতে চায়। তাই জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো বিকল্প নাই।’
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) জুমার নামাজ শেষে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মসজিদ এ বাইতুল হারাম পরিদর্শনে এসে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘যেহেতু দেশে ষড়যন্ত্র একটার পর একটা চলছে; সচিবালয় একটি নিরাপত্তাবেষ্টিত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। দেশবাসীর মনে প্রশ্ন জেগেছে, সেখানে (সচিবালয়) কিভাবে আগুন লেগেছে। কেননা গুরুত্বপূর্ণ এই সচিবালয়ে যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দালাল ছিল তারা এখনো বহাল তবিয়তে আছে। আছে বলেই আজকের এই বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। যারা এই সরকারকে ব্যর্থ করতে চায়। জনগণকে অনিতিবিলম্বে সচিবালয়ে আগুন সংশ্লিষ্ট ঘটনার সঠিক তথ্য অন্তর্বর্তী সরকারকে জানাতে হবে। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে কারা জড়িত? আমরা যে কথা বার বার বলে আসছি; ফ্যাসিবাদের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের মূল যারা তারা এখনো বিভিন্ন জায়গায় রয়ে গেছে।’
অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি শত্রু-মিত্র চিনতে চেষ্টা করুন। দেশের জনগণ ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগকে তাড়িয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের দোসর যারা আপনাদের আশেপাশে আছে; যাদের কাধে ভর করে আপনারা সংস্কার করতে চান, ভালো কাজ করতে চান। সেটা কোনোভাবেই সম্ভব না। বরং দীর্ঘ ১৭, ১৮ বছর যারা বঞ্চিত ছিলো তাদের ওপর নির্ভর করুন।’
আবদুস সালাম বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে দুটি শক্তি। একটি হলো ভারতীয় আধিপত্যবাদের পক্ষের শক্তি আরেকটি হলো জাতীয়তাবাদী শক্তি। ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির পক্ষে যারা আছে, তাদের ওপর নির্ভর করে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেওয়া যাবে না। দেশ ও জাতিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর নির্ভর করতে হবে। আপনার (অন্তর্বর্তী সরকার) সরকারকে আমরা ও জনগণ এনেছি। তাই আমরা চাই এই সরকার সফল হোক। কিন্তু এর আগেও আমরা দেখেছি; এই ভারতীয় আধিপত্যবাদীর শক্তি যারা আছে তারা পূর্বের তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ব্যর্থ করেছিলো। লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ মেরে তারা সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ব্যর্থ করে দিয়ে সেনাসমর্থিত সরকার নিয়ে এসেছিলো। এক-এগারো নিয়ে এসেছিলো। আজকেও সেই ধরণের ষড়যন্ত্র তারা করছে কিনা? আপনাদের (অন্তর্বর্তী সরকার) সেটা বুঝা উচিত। তাই বলছি; আন্দোলনের পক্ষের শক্তির ওপর নির্ভন করুন। জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর নির্ভর করুন। কারণ ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তির ওপর নির্ভর কোনো বেশিদিন সামনে অগ্রসর হতে পারবেন না।
একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘দেশের সকল সমস্যার সমাধানের দায়িত্ব নেয়া থেকে বিরত থাকুন। যদি জনগণ সকল দায়িত্ব আপনাদের ওপর দিতে চায় এবং আপনারা সকল দায়িত্ব নিতে চান সেটা কোনোভাবেই সম্ভব না। সেটার দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দিন। তাই অনতিবিলম্বে নির্বাচনের জন্য যতটুকু সংস্কার সেটা করে নির্বাচনের উদ্যোগ নেবেন। নির্বাচনী রোডম্যাপ দ্রুত ঘোষণা করুন। তাহলেই সকল ষড়যন্ত্র আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাবে। কারণ জনগণ যখন রাস্তায় নেমে আসবে তখন সকল ষড়যন্ত্র কেটে যাবে।’
আবদুস সালাম বলেন, ‘দেশে পরপর তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কিন্তু এইদেশের মানুষ ভোট দিতে পারে নাই। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিলো। কাজেই যারা বলছেন; ভোটের জন্য কী এই পরিবর্তন? হ্যাঁ ভোটের জন্যই পরিবর্তন হয়েছে। ভোটের মাধ্যমে যে সরকার আসবে সেই সরকার দেশ পরিচালনা করবে। এটার জন্যই পরিবর্তন হয়েছে। যেহেতু ভোট ছিলো না, ভোট দেয় নাই। যেহেতু দেশ পরিচালনায় স্বৈরাচার ছিলো। তাই জনগণ স্বৈরাচারকে হঠিয়েছে আর আগামীতে নিজের ভোট দিয়ে নিজের প্রতিনিধি সংসদে পাঠানোর জন্যই তারা শেখ হাসিনাকে তাড়িয়েছে। কাজেই যারা মনে করেন ভোটের জন্য পরিবর্তন হয়নি; এটা ভুল। ভোটের জন্যই পরিবর্তন হয়েছে। ভোট মানেই জনগণের অধিকার।







