রাকসুর ইতিহাসে প্রথম নারী ভিপি প্রার্থী তাসিন খান


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ৬৩ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রার্থী হয়েছেন এক নারী শিক্ষার্থী। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন খান। ইতোমধ্যে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন।
জানা গেছে, ১৯৬৪ সালে রাকসু প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত ১৪ দফায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ভিপি পদে কোনো নারী শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। যদিও কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন পদে একাধিক ছাত্রী অংশ নিয়েছিলেন।
তাসিন খান ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। জুলাই আন্দোলনে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির কর্মী। পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঘোষণা প্রসঙ্গে তাসিন বলেন, “৫ আগস্টের পর যখন রাকসু নিয়ে আলোচনা শুরু হয়, তখন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভেবেছিলাম। পরে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে কথা বলে ভিপি পদে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার কোনো দলীয় সাপোর্ট, ফান্ডিং বা কর্মীবাহিনী নেই। তবে আমি আমার দক্ষতার জায়গা থেকে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।”
জুলাই অভ্যুত্থানের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, “যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ শুরু করি, তখন ভেবেছিলাম হয়তো রাজপথেই মারা যাব, অথবা বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে। সেখান থেকে ফিরে এসে এখন মনে হচ্ছে—এই সময়টা আমার জন্য বোনাস সময়। তাই আমার আর কিছু হারানোর ভয় নেই।”
তবে নির্বাচনে ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সাইবার বুলিংয়ের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাসিন। তিনি বলেন, “রাকসু নির্বাচনে ক্ষমতা অর্জনের বিষয় আছে, সেখান থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ব্যক্তিগত আক্রমণ, চরিত্রহনন কিংবা ছবি বিকৃত করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নোংরামির শঙ্কা আছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি এন্টি সাইবার বুলিং সেল গঠনের আশ্বাস দিয়েছিল, কিন্তু কার্যক্রম শুরু হতে দেখিনি।”
ভিওডি বাংলা/ আরিফ