• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

‘প্রতিবন্ধীদের জন্য আমরা স্বতন্ত্র অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিবো’

   ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৬ পি.এম.
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আজকের এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনে উপস্থিত থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আপনাদের মাঝে এসে আমি সম্মানিত ও আনন্দিত বোধ করছি। আজ আমি শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে এখানে আসিনি। আমি এসেছি একজন ভাই, বন্ধু, কিংবা অভিভাবক হিসেবে আপনাদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এবং আপনাদের প্রতিভা ও আত্মনির্ভরশীলতা বিকাশে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আপনারা আমাদের পরিবারের অংশ, সমাজের অংশ, এবং দেশের অংশ। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে, আমাদের সমাজ ও অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে, আপনাদের অসাধারণ ভূমিকা রয়েছে।

শনিবার ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি-আরডিইসি ভবন মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, আপনাদের জীবন ও সংগ্রাম আমাদের শেখায় যে, কর্মদক্ষতা, সক্ষমতা বা কাজের সামর্থ্য কেবল শারীরিক বা মানসিক অবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি, এবং সৃষ্টিকর্তার দেওয়া পরীক্ষাগুলোকে হাসিমুখে গ্রহণ করার যে সাহস আপনাদের রয়েছে, সেটিই সত্যিকারের সক্ষমতার পরিচয়।

তারেক রহমান বলেন, আমরা যারা ভাগ্যবান, মহান আল্লাহর কৃপায় আপনাদের মতো কঠিন শারীরিক বা মানসিক পরীক্ষার মুখোমুখি হইনি, তারা অনেক সময় বুঝতেই পারি না কী অসীম বাধা অতিক্রম করে আপনারা স্বপ্ন দেখেন এবং আমাদেরও স্বপ্ন দেখতে শেখান। আপনারা আমাদের মনে করিয়ে দেন যে, সব অক্ষমতাকে জয় করে সমাজের প্রতিটি মানুষ মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চায়, এবং দৃঢ়তার সাথে সসম্মানে বাঁচতে পারে। আপনাদের সেই সাহস, সংকল্প ও শক্তি আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস। এটি আমাদের উদ্বুদ্ধ করে একটি সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক সুবিচারের ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যেতে। আজ আমি আপনাদের এমন চারজন মানুষের জীবনের গল্প শোনাবো, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় যাঁদের অর্জিত সাফল্য আমাদের প্রেরণা যোগায়।

প্রথম গল্পটি পটুয়াখালীর একজন ৬৮ বছর বয়সের মানুষের, যিনি বাক্‌প্রতিবন্ধী হলেও, ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ে গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ করছেন। তরুণদের সাথে পাল্লা দিয়ে, বিদেশী ক্লায়েন্ট থেকে ডলার উপার্জন করে পরিবারের অর্থনৈতিক দায়িত্ব পালন করা এই মানুষটির সাফল্য প্রমাণ করে, বয়স বা প্রতিবন্ধকতা কখনো জীবনের গতিপথ বদলাতে পারে না।

দ্বিতীয় গল্পটি এক তরুণের, যাঁর কোমর থেকে পা পর্যন্ত অবশ। শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে শিখিয়েছিলো, “আমার পা নেই তো কী হয়েছে? আমার হাত তো আছে।” তিনি নিজের পছন্দের শখের কাজ, কাঠের শিলপকলা তৈরির মধ্যে নিজের প্রতিভা প্রকাশ করতে শুরু করেন। পা না থাকলেও, হাতের নিপুণ কাজে তিনি অসাধারণ কাঠের পণ্য তৈরি করেন, যা স্থানীয় বাজারে বিক্রি হয় এবং তাঁর হাতের কাজ আজ দেশজুড়ে জনপ্রিয়।

তৃতীয় গল্পটি মৌলভীবাজারের এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী তরুণের, যিনি চা-বাগানের এক শ্রমিকের সন্তান। চোখে আলো নেই, কিন্তু মনের আলোর শক্তিতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। তাঁর সংগ্রামী মনোবল আমাদের শিখিয়েছে, ইচ্ছাশক্তি আর মেধা কখনো শারীরিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার মানে না।

চতুর্থ গল্পটি এমন একজন মানুষের, যাঁর চলার শক্তি নেই, একমাত্র ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল নড়াতে পারেন। সেই আঙুল দিয়েই তিনি কম্পিউটারে কাজ করেন। কুমিল্লার এক ছোট ঘরে বসে তিনি বেলজিয়ামের প্রতিষ্ঠানের জন্য পণ্যের ক্যাটালগ ডিজাইন করেন, একক প্রচেষ্ঠায় নিশ্চিত করে চলছেন অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক অগ্রযাত্রা।

এই চারজন ব্যক্তি আমাদের দেখিয়েছেন যে, প্রকৃত সক্ষমতা শরীর দিয়ে নয়, মনের জোর, ইচ্ছাশক্তি আর কঠোর পরিশ্রম দিয়ে মাপা হয়। তাঁদের গল্প আমাদের শিখিয়েছে, “বাধা” শুধু একটি শব্দ, যা চেষ্টার মাধ্যমে জয় করা সম্ভব। আমাদের দায়িত্ব – তাঁদের লড়াইকে সম্মান জানানো, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিজের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পাবে।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, শারীরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও যাঁরা নিজ উদ্যোগে অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাঁদের বিজয়ের গল্প আমাদের আলোর পথ দেখায়। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামীর বাংলাদেশে শারীরিক সীমাবদ্ধতা যেন কাউকে বৈষম্যের শিকার না করে, পিছিয়ে না রাখে, সেই বহুমুখী উদ্যোগ নিয়ে, জীবনযুদ্ধে বিজয়ের অজস্র প্রেরণাদায়ী গল্প সৃষ্টি করা হবে। এক সাথে কাজ করে আমরা এমন একটি সমাজ গড়ে তুলব, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারবে, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, গত ১৬ বছর ধরে আমরা এমন একটি বাংলাদেশে বসবাস করেছি, যেখানে আমাদের প্রাপ্য নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা একে একে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সমাজের প্রতিটি শ্রেণী ও পেশার মানুষ রাষ্ট্রীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, এবং আপনারাও তার ব্যতিক্রম নন। এর ফলে, আপনাদের জীবনের মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি, যা ব্যক্তিগতভাবে আমিও অনুভব করেছি।

‘আমি আপনাদের জানাতে চাই, আমি এবং আমার দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করলে  আমাদের প্রতিজ্ঞা থাকবে আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকবো। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা কেউ প্রতিবন্ধী নন। বরং, আপনারা সকলে বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিক। আপনাদের প্রত্যেকের রয়েছে অসীম সক্ষমতা।’

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচিত বিএনপি সরকার নিশ্চিত করবে যে, দেশের অন্যান্য সকল নাগরিকের মতো আপনাদেরও নাগরিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে এবং সমানভাবে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ আন্তরিকতা থাকবে। আপনাদের সুচিকিৎসা, শিক্ষার সুযোগ, চাকরির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ, এবং দেশের প্রতিটি স্থাপনা ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে আপনাদের জন্যে এক্সিসেবল করে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

‘আজ আপনাদের বক্তব্য থেকে আমি উপলব্ধি করছি যে; আপনাদের হয়তো মনে হয়, বাংলাদেশের অনেক কিছুই এখনো আপনাদের জন্য ফেয়ার নয়। অনেক জায়গায় আপনাদের একসেস দেওয়া হয় না, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়, এবং হয়তো উপেক্ষিত করা হয়। আপনাদের এই অনুভূতিগুলোকে আমি গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি এবং এগুলো সমাধানে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, নতুন আইন প্রণয়ন, বিদ্যমান আইনের সঠিক বাস্তবায়ন, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি, কিংবা সেই অর্থের সুষ্ঠু বণ্টন – যেভাবেই হোক, আমরা চেষ্টা করবো আপনাদের অধিকার ও সুযোগ নিশ্চিত করতে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেকের জন্য সমান ন্যায্যতা ও একটি ফেয়ার শেয়ার নিশ্চিত থাকবে। সেই লক্ষ্যেই কিন্তু আপনাদের সাথে আমাদের আজকের এই মতবিনিময় অনুষ্ঠান।

‘আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনের মানোন্নয়নে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যার ভিত্তি হবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সামাজিক ক্ষমতায়ন এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা। আমরা একটি স্বতন্ত্র অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নিবো, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় করবে।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, আপনারা অনেকেই জানেন, ২০০১ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদান শুরু করলেও, আওয়ামী লীগ সেই ভাতাকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য না রেখে, নিজেদের নেতা-কর্মীদের মাঝে লুটে নিয়েছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে, তা ন্যায্যভাবে পুনর্নির্ধারণ করতে চাই।  নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে, আমরা সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করবো, যাতে একজন প্রতিবন্ধীও সামাজিক সুবিধা থেকে বাদ না পড়ে।

‘দেশে কিছু প্রাইভেট অর্গানাইজেশন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নানা ধরনের ট্রেনিং প্রদান করে। তবে, এই ট্রেনিং শেষে চাকরির ব্যবস্থা করতে গিয়ে তারা হিমশিম খায়। এই সমস্যার সমাধানে, আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো যাতে দেশের বড় ব্যবসাগুলো একটি নির্দিষ্ট শতাংশ শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ করলে, আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু ট্যাক্স সুবিধা বা কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট প্রদান করার চিন্তা করতে পারি।’

তিনি বলেন, সুবর্ণ নাগরিক কার্ড" নামক যে তথাকথিত কার্ড রয়েছে, সেটিকে গতিশীল করে আমরা এর আওতায় স্বাস্থ্য বীমা, শিক্ষা বৃত্তি, পরিবহন ডিসকাউন্টসহ অন্যান্য সামাজিক সুবিধা প্রদান করতে চাই। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিরা যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, আমরা তাঁদের জন্য বাস্তবসম্মত ভোকেশনাল ও টেকনিকাল ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করবো।

‘বিশেষত আউটসোর্সিং, ডাটা প্রসেসিং, এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিন্তু মেধাবী তরুণদের জন্য সুনির্দিষ্ট কারিগরি ও কাঠামোগত সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি, ট্যাক্স ওয়েভার এবং ওয়ার্ক স্টেশন সৃষ্টির সুযোগ কার্যকরভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও, উদ্যমী ও সফল প্রতিবন্ধীদের জন্য সহজ শর্তে বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান করে উদ্যোক্তা সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো যাবে।’

তিনি বলেন, আমরা গণপরিবহন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনাকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী করে তোলার লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাই। পাশাপাশি, সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে চাই। আমরা প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার বিষয়টি বিবেচনা করবো এবং তাঁদের স্বাস্থ্যসেবা বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ করতে চাই। তাঁদের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক সেবা প্রদান, প্রায়োরিটি সল্যুশন, এবং বিভিন্ন এডমিশনে নির্দিষ্ট অংশ সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় সংস্কার এনে প্রতিবন্ধীসহ প্রান্তিক জনগণের ন্যায্য বিচার পাওয়ার সুযোগ আরও সুগম করার উদ্যোগ নিতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে, জেলা পর্যায়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থাকবে, যেখানে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, ব্রেইলসহ ইনক্লুসিভ এডুকেশনের আধুনিক পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি, কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষার মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে।

‘স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে, আমরা প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের চেষ্টা করবো, যেখানে শারীরিক থেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আধুনিক সুবিধা থাকবে। আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগণের জন্য মোবাইল হেলথ ক্লিনিক চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করবো। সহায়ক উপকরণ তৈরির জন্য কারখানা স্থাপন এবং আমদানির ক্ষেত্রে কর মওকুফের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকবে। গুরুতর প্রতিবন্ধীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যার বিশেষ কর্মসূচি প্রণয়ন করার চেষ্টা করা হবে।’

তিনি বলেন, আমাদের অন্যতম লক্ষ্য থাকবে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ নিশ্চিত করা। ড্রয়িং, আর্ট, মিউজিক, স্পোর্টস এই সমস্ত ক্রিয়েটিভ ও ইনোভেটিভ একটিভিটিতে তাঁদের জন্মগত দক্ষতা ও শেখার আগ্রহ অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রদান করা হবে। প্রান্তিক থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত, আমরা তাঁদের খেলাধুলার সিস্টেম্যাটিক ডেভেলপমেন্ট এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে প্যারাঅলিম্পিকে ভালো ফল অর্জনে সহায়তা করবো। স্পোর্টস, ডিবেট, সায়েন্স ফেয়ারসহ বহুবিধ সহশিক্ষা কার্যক্রমে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট স্পন্সরশিপের সুযোগও তৈরি করা হবে।

‘আমরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ, সক্ষম, এবং সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি ও আমার দল বিএনপি উপলব্ধি করি, আপনাদের সমস্যা ও কষ্টগুলো বাস্তব এবং গভীর। আপনাদের মনে রাখতে হবে, এই বাস্তবতায় আপনারা একা নন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো। কারণ, আপনাদের প্রতিবন্ধকতা আমাদের সবার প্রতিবন্ধকতা। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের পেছনে রেখে আমরা কখনো এগিয়ে যেতে পারি না, আর এগোতে চাইও না। আমরা সবাই মিলে একসাথে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, সেটি হবে সবার জন্য ফেয়ার, সবার জন্য ইনক্লুসিভ, সবার জন্য বাসযোগ্য, এবং সবার জন্য উপভোগ্য।’

তারেক রহমান বলেন, আসুন, আমরা সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যার ভিত্তি হবে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, এবং উদারতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণ। আপনাদের কল্যাণ এবং সাফল্য আমাদের অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রফিকুল ইসলাম, সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ পারভেজ রেজা কাকন ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহবায়ক আতিকুর রহমান রুমন।

এছাড়া অনুষ্ঠান আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডক্টর মাহাদী আমিন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ডাঃ মোস্তফা আজিজ সুমন, বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা শারমিন পুতুল, জাতীয় প্রেসক্লাবে স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে’র সাংগঠনিক সম্পাদক এম সাঈদ খান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক ফারহান আরিফ।

এমএইচপি/ ভিওডি বাংলা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
আসিফ মাহমুদের সঙ্গে মার্কিন কূটনীতিকের সাক্ষাৎ
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
বিএনপিতে যোগ দিলেন মেঘনা আলম
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই
শঙ্কামুক্ত মির্জা আব্বাস, দেশে ফিরতে পারেন ঈদের আগেই