• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

লোকসান কমাতে পশ্চিমাঞ্চলের ১১ ট্রেন যাচ্ছে ইজারায়

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ জুন ২০২৬, ১১:২৪ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ক্রমাগত লোকসান ও রাজস্ব ঘাটতি কমাতে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ১১টি মেইল ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে রেলওয়ে সদর দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়ার বিষয়ে সদর দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে পরবর্তী প্রক্রিয়া শেষে বিভিন্ন অপারেটরের কাছে ট্রেনগুলো পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল রেলে চলাচলকারী অধিকাংশ মেইল ও লোকাল ট্রেন দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিকভাবে অলাভজনক। পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি, টিকিটবিহীন যাত্রী এবং কম ভাড়ার কারণে এসব ট্রেন থেকে কাঙ্ক্ষিত আয় আসছে না। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব বাড়ানোর অংশ হিসেবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে পশ্চিমাঞ্চল রেলে ছয়টি আন্তর্জাতিক ট্রেন, ৬২টি আন্তনগর ট্রেন, ৫৫টি মেইল ও কমিউটার ট্রেন এবং ১২টি লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। এর মধ্যে আগে থেকেই ২৪টি মেইল, কমিউটার ও লোকাল ট্রেন বেসরকারি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ট্রেন থেকে মাসে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা আয় হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে নতুন করে আরও ১১টি ট্রেন ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে। অনেকের আশঙ্কা, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে ট্রেনের ভাড়া বাড়তে পারে। পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের জন্য সেবার ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রেলের পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক অর্থবছর ধরেই রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না পশ্চিমাঞ্চল রেল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন থেকে আয় হয়েছিল ৬৪৯ কোটি টাকা, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৭৭ কোটি টাকা। একইভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় হয়েছে ৬২১ কোটি টাকা, যদিও লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ১৬০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে ৮২৫ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয় হয়েছে মাত্র ৫৬৬ কোটি টাকা। এতে ক্রমেই বাড়ছে আর্থিক চাপ।

রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি আন্তঃজেলা রুটের ট্রেন নিয়মিত লাভজনক হলেও অধিকাংশ লোকাল ও মেইল ট্রেন ক্ষতির মুখে চলছে। বিশেষ করে রাজশাহী-ঢাকা, ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী-খুলনা এবং রাজশাহী-পার্বতীপুর রুটের কিছু ট্রেন ভালো আয় করছে।

অন্যদিকে স্থানীয় রুটগুলোতে টিকিট ছাড়া যাতায়াতের প্রবণতা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক যাত্রী কাউন্টার থেকে টিকিট না কেটে ট্রেনের কর্মীদের সরাসরি টাকা দিয়ে ভ্রমণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের অতিরিক্ত প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আনসার আলী বলেন, নতুন জনবল নিয়োগ দিলে পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে। সে তুলনায় বেসরকারি অপারেটরের মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনা করলে ব্যয় কমিয়ে কিছুটা লাভজনক অবস্থায় আনা সম্ভব হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, লোকাল ট্রেনে কম আয়ের অন্যতম কারণ যাত্রীদের টিকিট কিনতে অনীহা। সঠিকভাবে টিকিট পরীক্ষা ও রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাজস্ব বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নয়ন। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সব ট্রেনে নিয়মিত টিকিট যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে সব ট্রেনের আয়-ব্যয়ের হিসাব একত্রে করা হয়। পৃথকভাবে কোন ট্রেনে কত লাভ বা লোকসান হচ্ছে, সেই হিসাব আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হয় না।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
অলিম্পিক ডে উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত
ছবি: সংগৃহীত
পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, বাড়তে পারে বেতন-ভাতা
ছবি: সংগৃহীত
১৫ বছর পর এনআইডি নবায়ন বাধ্যতামূলক করার চিন্তা ইসির