• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

কাঠগড়ায় বিমর্ষ ইনু, হাত ধরতে নিষেধ করলেন পুলিশকে

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ জুন ২০২৬, ০৪:৪৮ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী যথারীতি মঙ্গলবার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে রায় পড়া শুরু হয় ট্রাইব্যুনালে। কাঠগড়ায় উপস্থিত ইনু। এ সময় তাকে বিমর্ষ দেখা গেছে।  

রায়ে সাজা ঘোষণার ধাক্কা ইনু সইতে পারবেন কিনা, রায় শুনে ইনু অচেতন বা মারাত্মক বিরূপ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান কিনা, কোনো অঘটন ঘটে কি না- তা নিশ্চিত করতে রায় পড়ার একটি পর্যায়ে কাঠগড়ায় থাকা ইনুর হাত ধরে রাখার চেষ্টা করে পুলিশ । এ সময় হাত ধরতে নিষেধ করেন তিনি। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর দৃশ্য ছিল এটি।  রায় পড়ার সময় হাসানুল হক ইনুকে বিমর্ষ অবস্থায় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এ রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ।  ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর মধ্য দিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ষষ্ঠ মামলার রায় ঘোষিত হলো।

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যা, শেখ হাসিনার সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে দমন-নিপীড়নে সহায়তা ও উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় হাসানুল হক ইনু একমাত্র আসামি। তার বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার মধ্যে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটিতে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে তিন অভিযোগের সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তিনি ১০ বছর ভোগ করবেন।

মামলার একমাত্র আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ১, ২, ৪, ৫ ও ৮ নাম্বার অভিযোগে তাকে খালাস দেন আদালত। এ সময় কাঠগড়ায় ছিলেন হাসানুল হক ইনু। 

আট অভিযোগ : প্রথম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনকারীদের জামায়াত, সন্ত্রাসী ও সাম্প্রদায়িক অ্যাখ্যা দেন ইনু। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগের উসকানি, প্ররোচনা, সহায়তা দেন এবং হত্যারও নির্দেশ দেন তিনি।

দ্বিতীয় অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪–দলীয় জোটের সভা হয়। সেখানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ‘শুট অ্যাট সাইট’–এর সিদ্ধান্ত হয়। হাসানুল হক সেই সভায় উপস্থিত থেকে ‘শুট অ্যাট সাইটের’ সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে নির্দেশ, প্ররোচনা, উসকানি ও সহায়তা করেন।

তৃতীয় অভিযোগ, ছবি দেখে আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আটক ও নির্যাতন করার জন্য কুষ্টিয়ার এসপিকে ফোনে নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ।

চতুর্থ অভিযোগ, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্রের ব্যবহার করা এবং ছত্রীসেনা নামিয়ে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে বম্বিংয়ের পরিকল্পনা করার অভিযোগ।

পঞ্চম অভিযোগ, গণমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া। সরকারের গ্রহণ করা হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন–নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করা।

ষষ্ঠ অভিযোগ, ১৪–দলীয় জোটের সভায় উপস্থিত থেকে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।

সপ্তম অভিযোগ, শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকা।

অষ্টম অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরে ইউসুফ শেখ, উসামা, সুরুজ আলী, আশরাফুল ইসলাম, বাবলু ফরাজী ও আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন নামের ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যায় নির্দেশনা প্রদান। পাশাপাশি সারা দেশে ১ হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি ছাত্র–জনতাকে আহত করার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর রায় আজ
ছবি: সংগৃহীত
ইনুর মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় মঙ্গলবার
ছবি: ভিওডি বাংলা
৩ মামলায় জামিন পেলেন সংগীতশিল্পী মমতাজ