• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে যুবকের আত্মাহুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:২৫ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

চীনের নীতির প্রতিবাদ ও তিব্বতের স্বাধীনতার দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন লবগা রাংজেন নামে এক তিব্বতি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাংজেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ।

পুলিশের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এক ব্যক্তি গায়ে আগুন দিয়েছেন—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

মার্কিন দৈনিক নিউইয়র্ক পোস্ট প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানায়, ঘটনার সময় রাংজেনের হাতে স্বাধীন তিব্বতের একটি পতাকা ছিল এবং তিনি তিব্বতি সন্ন্যাসীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত ছিলেন। আত্মাহুতির ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাংজেনের বন্ধু লবসাং পালজোর নিউইয়র্ক পোস্টকে জানান, ৪২ বছর বয়সী রাংজেন প্রায় ২০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছিলেন এবং দেশটির নাগরিকত্ব অর্জন করেছিলেন। পেশায় তিনি ভাড়ায় গাড়ি চালাতেন।

পালজোরের ভাষ্য, রাংজেন শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং তিব্বতে চীনের নীতির বিরোধিতা করতেন। তিনি তিব্বতের স্বাধীনতার পক্ষে ছিলেন এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে সেই দাবি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী ছিলেন।

তিব্বতের স্বাধীনতাকামী সংগঠনের সভাপতি তেনচো গিয়াতসো বলেন, রাংজেন তিব্বতে চীনের শাসন এবং ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’-এর বিরোধিতায় সক্রিয় ছিলেন।

চীনের দাবি, আইনটির উদ্দেশ্য দেশটির বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও পরিচয় ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে তিব্বতি ও উইঘুর মুসলিমদের অধিকার আরও সীমিত হতে পারে বলে মানবাধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ ইস্যুতে তিব্বতিরা বহুবার জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন।

তিব্বতের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে চীন ও তিব্বতের নির্বাসিত নেতৃত্বের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। ১৯৫০ সালে চীনা সেনাবাহিনী তিব্বতে প্রবেশের পর থেকে অঞ্চলটি বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ১৯৫৯ সালের বিদ্রোহ দমনের পর তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে তিব্বতের স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছেন।

সূত্র : নিউইয়র্ক পোস্ট

ভিওডি বাংলা/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বোম্বে হাইকোর্ট
‘নাগরিকদের কি সরকারের দাস বানাতে চান?’- মুম্বাই পুলিশকে আদালতের ভর্ৎসনা
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে গভীর খাদে বাস, প্রাণ গেল ৪০ জনের
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির সাত দিনের রাষ্ট্রীয় বিদায়ে কোথায় কোন অনুষ্ঠান