• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বন্যার্তদের জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০১ পি.এম.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য তিন জেলায় টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়াসহ ১০টি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শুক্রবার (১০ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে চট্টগ্রাম অঞ্চলে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় বিপুলসংখ্যক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দুর্গত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত বিভিন্ন মানবিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় দুর্যোগকবলিত এলাকার সার্বক্ষণিক তদারকি ও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতা কর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, উদ্ধার কার্যক্রম এবং পুনর্বাসনে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মাহ্‌দী আমিন। সেগুলো হলো-
১. প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিক দুর্যোগকবলিত এলাকার খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

২. চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। সেখানে প্রায় ১২ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

৩. জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান—এই পাঁচ জেলার জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়ে তা দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

৪. সরকারের নির্দেশনায় দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

৫. জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

৬. চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন, ত্রাণ বিতরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর সহায়তার বার্তা পৌঁছে দিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত এলাকায় অবস্থান করছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

৭. দুর্গত মানুষের সহায়তায় বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

৮. ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির কারণে দুর্গত এলাকায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

৯. দুর্যোগে হতাহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি পরিদর্শন করেছেন।

১০. টানা বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেলপথ ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

পোস্টে বলা হয়, সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক উদ্যোগ ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছেন এবং সরকার আর্তমানবতার সেবায় কাজ করে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ভিওডি বাংলা/এএইচ/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে নতুন কৌশলপত্র অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত
‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় মন্ত্রিসভার অনুমোদন
ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় সম্পদে নতুন প্রাণ, বন্ধ পাটকলে ১,০৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগ