• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শিশার চালান জব্দ, গ্রেপ্তার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পি.এম.
অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশা, হুক্কা ও অন্যান্য সরঞ্জাম। ছবি: ডিএনসি
অভিযানে উদ্ধার হওয়া শিশা, হুক্কা ও অন্যান্য সরঞ্জাম। ছবি: ডিএনসি

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) বিশেষ অভিযানে রাজধানীতে দেশের ইতিহাসে এক অভিযানে সর্বোচ্চ পরিমাণ শিশা জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে অনলাইনে পরিচালিত একটি সংঘবদ্ধ শিশা সরবরাহকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা, ৪১টি হুক্কা, বিপুল পরিমাণ কয়লা ও বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত।

ডিএনসি জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে শিশা বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিল। ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অর্ডার নেওয়া, কুরিয়ারের মাধ্যমে পণ্য পাঠানো এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে টাকা লেনদেন ছিল তাদের ব্যবসার প্রধান মাধ্যম।

ডিএনসি ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফি নামে দুই সহোদরের নেতৃত্বে একটি চক্র অনলাইনে শিশা বিক্রির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। তারা একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের কাছে শিশা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ করত।

তথ্য যাচাইয়ের পর ডিএনসির একটি বিশেষ টিম গত ২ জুলাই রাজধানীর ভাটারা এলাকার বসুন্ধরায় অভিযান চালায়। সেখানে একটি কুরিয়ার পার্সেল থেকে এক কেজি শিশা উদ্ধার করা হয়। পরে একই দিনে মালিবাগ এলাকায় আরও একটি পার্সেল জব্দ করা হয়, যেখানে আরও এক কেজি শিশা পাওয়া যায়।

দুই পার্সেলের প্রেরক ঠিকানা অনুসরণ করে ডিএনসির সদস্যরা গুলশানের কালাচাঁদপুর এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান পরিচালনা করেন। ওই ফ্ল্যাট থেকেই আহমেদ শরীফি ও মেহদাদ শরীফিকে আটক করা হয়।

আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও ৪৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা ও ২০টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া শিশা সেবনের বিভিন্ন উপকরণও জব্দ করা হয়েছে।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্তরা অত্যন্ত সংগঠিতভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তারা সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত সরবরাহ দিত।

গ্রেপ্তার দুই সহোদরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি জানতে পারে, তাদের কাছে শিশার বড় চালান সরবরাহ করতেন মাকসুদ আলম নামে আরেক ব্যক্তি। পরে ভাটারার নূরেরচালা এলাকায় তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়।

সেখান থেকে মাকসুদ আলমকে আটক করা হয় এবং আরও ১৮ কেজি শিশা ও ২১টি হুক্কা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কয়লা ও ব্যবসায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

সব মিলিয়ে চারটি স্থানে পরিচালিত অভিযানে ৬৫ কেজি ৯০০ গ্রাম শিশা, ৪১টি হুক্কা, প্রায় ৪০ কেজি কয়লা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তার দুই সহোদর দীর্ঘ সময় ইরানে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে থাকাকালে তারা শিশা ব্যবসার বিভিন্ন কৌশল ও বাজারব্যবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। দেশে ফিরে একই মডেলে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসা শুরু করেন তারা।

ডিএনসির ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে পণ্যের ছবি প্রকাশ করত, গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত এবং অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করত। এরপর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলায় পার্সেল পাঠানো হতো।

তদন্তে আরও জানা গেছে, অনলাইনে পরিচালিত শিশা বিক্রির প্রথম দিকের পেজগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম ছিল।

চক্রটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে লেনদেন পরিচালনা করত। বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত একাধিক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হতো, যাতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের পরিচয় গোপন থাকে।

ডিএনসি জানিয়েছে, জব্দ হওয়া মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে আর্থিক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট, লেনদেনের উৎস এবং অর্থের প্রবাহ শনাক্তে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে।

অভিযানে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট থেকে বড় ধরনের গ্রাহক ডাটাবেস উদ্ধার করেছে ডিএনসি। এতে দেশের বিভিন্ন জেলার অসংখ্য ক্রেতার তথ্য, অর্ডারের বিবরণ এবং লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে নিয়মিত ক্রেতা, পরিবেশক এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তের কাজ চলছে।

এছাড়া ডিজিটাল আলামত পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই চক্র কেবল শিশা বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে তারা আরও কিছু অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে মাদক ব্যবসায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-কমার্স, কুরিয়ার সার্ভিস ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নতুন কৌশলে ব্যবসা পরিচালনা করছে।

এসব অপরাধ দমনে ডিএনসি তাদের সাইবার নজরদারি, ডিজিটাল তদন্ত সক্ষমতা এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করেছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে অনলাইনভিত্তিক মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে দেশব্যাপী এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও ভূমিকম্প নিয়ে ডিএসসিসির বিশেষ সভা
১৯ কেজি সোনার বার
দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে মিলল ৪২ কোটি টাকার সোনা
ছবি: সংগৃহীত
কাঁঠালবাগানে সেপটিক ট্যাংকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩