• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় চাপে দেশের প্লাস্টিক শিল্প

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০১ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের প্লাস্টিক শিল্পে। কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে খাতটি। তবে নতুন বাজেটে কিছু শুল্ক ও কর ছাড় দেওয়ায় শিল্প মালিকদের মধ্যে আংশিক স্বস্তি ফিরেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীতে বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি সামিম আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকার বাইরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ। কোথাও কোথাও প্রতিদিন ১ থেকে ৪ ঘণ্টা কিংবা তারও বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এই অনিশ্চয়তার কারণে দেশের প্লাস্টিক কারখানাগুলোতে উৎপাদন ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যুদ্ধের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্লাস্টিক কাঁচামালের অ্যাসেসমেন্ট প্রতি টন ছিল ৮০০ থেকে ৯০০ ডলার। কিন্তু হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সংকট তৈরি হওয়ার পর সেই মূল্য বেড়ে বর্তমানে ১৫০০ থেকে ১৬০০ ডলারে পৌঁছেছে।

সামিম আহমেদ বলেন, প্লাস্টিক শিল্পের প্রধান কাঁচামাল আসে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে ওমান, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও ইরান। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কাঁচামালের দাম ও জাহাজ ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে তৈরি পণ্যের উৎপাদন খরচও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগে ২৫ কেজি প্লাস্টিক ম্যাটেরিয়ালের একটি ব্যাগের দাম ছিল প্রায় ৩২০০ টাকা। বর্তমানে সেটি ৫২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে প্যাকেজিং খরচও ৪ টাকা থেকে বেড়ে ৫ টাকা ৩০ পয়সায় পৌঁছেছে।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু কর ও শুল্ক ছাড় বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সংগঠনটি। বিপিজিএমইএর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পিভিসি রেজিন, জিপিএস রেজিন ও পিইটি রেজিনের আমদানি শুল্ক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আগের মতো ৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ফার্মাসিউটিক্যালস মেডিসিন প্যাকেজিং মেটেরিয়ালস অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের আমদানি শুল্কও ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্লাস্টিক রিসাইক্লিং শিল্পে বিদ্যমান ভ্যাট অব্যাহতি বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে ওয়েস্ট সরবরাহে উৎসে কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।

সংগঠনটি জানায়, রপ্তানি প্রণোদনার ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হারও ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামিম আহমেদ বলেন, ‘নতুন বাজেটকে ব্যবসাবান্ধব ও শিল্পোন্নয়ন সহায়ক হিসেবে আমরা দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক খাত শুধু নিজস্ব ব্যবসার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই শিল্প প্যাকেজিং ও বিভিন্ন কম্পোনেন্ট সরবরাহের মাধ্যমে দেশের অন্যান্য শিল্প খাতকেও সহায়তা করে। এ কারণে শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে আরও কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি জানান, প্লাস্টিক শিল্পের জন্য মোট ২৪টি পণ্যে শুল্ক ছাড় চাওয়া হলেও সরকার ১২টি পণ্যে এ সুবিধা দিয়েছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
সেতুমন্ত্রীর সঙ্গে জাইকা প্রেসিডেন্টের সৌজন্য সাক্ষাৎ
লণ্ডনে সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরলেন নৌমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
লণ্ডনে সামুদ্রিক পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রগতি তুলে ধরলেন যোগাযোগমন্ত্রী
ছবি: পিএমও
ভেজালবিরোধী অভিযানে গতি আনতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন