• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান বাসদের

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৭ জুন ২০২৬, ১২:১২ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ ও উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেছেন, নির্বাচিত সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের নামে শোক প্রস্তাব পাস করা, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী, আলবদর কমান্ডার, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারকে অন্তর্বর্তী সরকার বেকসুর খালাস দিয়েছে।
এ সবই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।

শুক্রবার (২৬ জুন) শহীদ জননী জাহানারা ইমামের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে এসব কথা বলেন তারা। সকালে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের নেতৃত্বে মিরপুরস্থ শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন- বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জুলফিকার আলী, কেন্দ্রীয় বর্ধিত ফোরামের সদস্য মাঈন উদ্দিন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য ও ঢাকা নগর কমিটির নেতা নাসির উদ্দীন প্রিন্স, রুখশানা আফরোজ আশা, আনোয়ারুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন তাজু, ইলিয়াস হাসান ইলু প্রমুখ।

সমাবেশে বাসদ সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাধীনতার পরই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ার কথা ছিল। কারণ গণহত্যাকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হলে মুক্তিযুদ্ধের নৈতিকতা প্রতিষ্ঠিত হয় না। কিন্তু ক্ষমতাসীন শাসকেরা তা করেনি। বরং তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে ’৭১-এর ঘাতক  যুদ্ধাপরাধীরা শুধু টিকে থাকেনি, পত্র পল্লবে বিকশিত হয়ে মহীরুহ রূপ ধারণ করে।

যার কারণে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েও শহীদ জননী জাহানারা ইমাম জীবিত অবস্থায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার এবং ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, তা আজও প্রাসঙ্গিক। 

বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে কতিপয় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করলেও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী, বাহিনী গঠন করে এবং সরাসরি হত্যা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগকারী সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং যুদ্ধাপরাধী গণহত্যাকারী দলের বিচার ও তাদের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাজেয়াপ্ত করেনি। বরং শাসক শ্রেণির দুই বৃহৎ দল প্রতিযোগিতা করে কে কত বেশি রাজনীতিতে ধর্ম ব্যবহার করবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী দলকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থেকেছে।

স্বাধীনতার ৫৫ বছরে ক্ষমতাসীন বুর্জোয়া দলগুলো পালাক্রমে দেশ পরিচালনা করলেও তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেন বজলুর রশীদ ফিরোজ।

তিনি বলেন, গত ২০২৪ এর জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসে  ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আস্ফালন সীমা ছাড়িয়েছে।

কথিত তৌহিদী জনতার নামে নারীদের পোশাক নিয়ে মোরাল পুলিশিং ধর্মীয় ও জাতীগত সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বেড়েছিল। ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত, কথিত ধর্ম অবমাননার নামে ধর্মীয় ও জাতীগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। মব সন্ত্রাসের আতঙ্ক নির্বাচনের পরে এখনো চলমান রয়েছে। 

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে দেশ শাসন করে শাসকশ্রেণির দুর্নীতিগ্রস্ত-দুর্বৃত্তায়িত আদর্শহীন বুর্জোয়া রাজনীতি দেশকে আজ চরম অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দুর্গতি ও দুর্দশার জায়গায় এনে দাঁড় করিয়েছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ, স্বাধীনতাবিরোধী গণহত্যাকারী দলসহ সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় সমতার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
রাতে ঢাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী
রাতে ঢাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী, বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন মন্ত্রীরা
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল
সংসদ অধিবেশন মুলতবি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
গুমের শিকার পরিবারের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা হবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী