{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

যেসব কারণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:৩২ পি.এম.
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ কেন নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত দ্রুতই পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। উভয় পক্ষই হামলার পরিধি বাড়াচ্ছে, কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত ভেঙে পড়েছে এবং পারস্য উপসাগরজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বন্দর অবকাঠামো এখন হামলার ঝুঁকিতে। এর ফলে বিশ্ব তেলের বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে হামলা বন্ধ না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করবে। এরপর থেকে ইরানের উপকূলীয় রাডার ও ড্রোন ঘাঁটির পাশাপাশি সড়ক, রেলপথ, টানেল, বন্দর অবকাঠামো এবং একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রেও মার্কিন হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরানি গণমাধ্যমের দাবি।

এর জবাবে ইরানও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তু বাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রধান বন্দরগুলোতেও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুয়েত। দেশটির একটি তেল শোধনাগার এবং একটি ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে জর্ডানও ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে।

কূটনীতির পথ কার্যত বন্ধ

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে নতুন করে মধ্যস্থতার সুযোগ ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। জুন মাসে দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এখন আর কার্যকর নয় বলে দুই পক্ষই জানিয়ে দিয়েছে।

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ইয়ান ব্রেমার সতর্ক করে বলেছেন, "আগামী কয়েক দিনই এই যুদ্ধের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময় হতে পারে।"

তেল আবিবভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের বিশ্লেষক ড্যানি সিট্রিনোভিচও বলেছেন, পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে ঘটনাপ্রবাহ কারও নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে পারে। তার মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এখন মনে করছে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধই তাদের একমাত্র কৌশল। দেশটির নেতৃত্ব বিশ্বাস করে, কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখালে যুক্তরাষ্ট্র আরও চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে ইরানের অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ওষুধের সংকট এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যে থাকলেও দেশটির নেতৃত্ব ধারণা করছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ বা সীমিত করে বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করা গেলে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনকেই সমঝোতার পথে ফিরতে হবে।

হরমুজ প্রণালিই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু

বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র চায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল অবাধ থাকুক, অন্যদিকে ইরান এই জলপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে আগ্রহী।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব অর্থনীতির ওপর একটি বড় চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনসহ উপসাগরীয় দেশগুলো যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হলে নিজেদের অর্থনীতি ও জ্বালানি রপ্তানির ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছে।

ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বন্দরগুলোতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখে, তাহলে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোও ইরানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন উদ্বেগ

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তেল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো দ্রুত মেরামত না হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে পারে।

ক্লেপারের মধ্যপ্রাচ্য জ্বালানি ও ওপেক+ বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক আমেনা বাকর সিএনএনকে বলেন, যুদ্ধ বন্ধ হলেও শুধু পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজ চলাচল শুরু করলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না।

তার ভাষায়, "যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনাগুলো মেরামত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যত দেরি হবে, তত দীর্ঘ সময় তেলের সরবরাহে বাধা থাকবে।"

বিশ্লেষকদের ধারণা, সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।

সূত্র: সিএনএন

ভিওডি বাংলা/আরআর/আ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ধ্বংসের দাবি কুয়েত-বাহরাইনে ইরানের সিরিজ হামলা
ছবি: সংগৃহীত
বন্দর ছাড়তেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ৪ ভারতীয় নাবিক
প্রতীকী ছবি
ইরানে নতুন করে হামলা শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী