‘রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি’
রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তন এবং গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারকে দ্রুত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে পারেনি। বরং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) সেমিনার হলে ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স এলায়েন্স অব বাংলাদেশের (এনইএবি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, বিশেষ করে শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণে স্মরণসভা ও আলোচনা’ অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইইবির ফেলো ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক প্রকৌশলী ড. মাহমুদুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম এবং কুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনইএবির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হামিদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ছিল একটি ব্যতিক্রমধর্মী বিপ্লব। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল নিরস্ত্র মানুষের আন্দোলন, যেখানে কোনো বিদেশি শক্তির সহায়তা ছিল না এবং কোনো একক নেতৃত্বও ছিল না।
তিনি বলেন, “জুলাই কেবল সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন নয়, রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিপ্লব। তাই এই বিপ্লব এখনো চলমান।”=
প্রধান বক্তা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন না এলে সংকট কাটবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কারের পরিবর্তে পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনৈতিক চর্চাই অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম তারেক রহমান পুরোনো পচন দূর করবেন। কিন্তু গত পাঁচ মাসে আমাদের উপলব্ধি হয়েছে, তিনি তা করেননি।”
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবগুলো গ্রহণে অনীহা রয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় পুরোনো ধারা বজায় রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু এখনো দলীয় কোটার ভিত্তিতে নিয়োগ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত থাকলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন কোনো শর্ত না থাকাকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ করেন।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, বিএনপি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দলীয় নিয়োগ ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুয়েটের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাকসুদ হেলালী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহিল আমান আজমী, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের মা বিলকিস জামান এবং জুলাই যোদ্ধা ইফফাত আহমেদ, শাহেদ ইসলাম ও মোরসালিন ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।
ভিওডি বাংলা/এমএস









মন্তব্য