• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজ করছে সরকার: পরিবেশমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২৯ পি.এম.
ছবি: ভিওডি বাংলা
ছবি: ভিওডি বাংলা

পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিশ্ব পরিবেশের বর্তমান অবস্থা, প্রেক্ষিত ও আমাদের বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান খুবই সামান্য হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সবচেয়ে বেশি মোকাবিলা করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। এ প্রেক্ষাপটে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভিশন নির্ধারণ করা হয়েছে ‘দূষণমুক্ত, বসবাসযোগ্য, সুস্থ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা’।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সংরক্ষণে সরকার ‘বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)’সহ মোট চারটি আইন এবং ‘পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩’সহ নয়টি বিধিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ সরকারি কার্যক্রম ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় পরিবেশ রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ অভিযোজন কার্যক্রমে বিশ্বের কাছে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান ০ দশমিক ৪৮ শতাংশেরও কম। তবুও জলবায়ু-সহিষ্ণু উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯)’ এবং ‘বাংলাদেশ বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২’-এর আওতায় ইটভাটা, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, উন্মুক্ত নির্মাণসামগ্রী, সীসাদূষণসহ বিভিন্ন দূষণ উৎসের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের লক্ষ্যে জাতীয় বায়ুমান ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য পোড়ানো বন্ধে অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বিধি সংশোধনসহ সংশ্লিষ্ট প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার ফলে বর্জ্যজনিত বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

দূষণ রোধে সরকারের অন্যান্য উদ্যোগ তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, উপকূলীয় ১২টি জেলার ৪০টি উপজেলায় ‘সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক’ ব্যবহার বন্ধে তিন বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বিশ্বব্যাংক-এর সহায়তায় ২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার ৫০ শতাংশ এবং উৎপাদন ৩০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।

তিনি আরও জানান, রাজধানীর আমিনবাজারে কঠিন বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি প্ল্যান্ট বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভিওডি বাংলা/খতিব/আ


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে অগ্রাধিকার খাত বিবেচনা করতে পারে সরকার: নৌপরিবহন মন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
বেইজিংয়ে বৈঠকে তারেক রহমান ও লি কিয়াং