ডিএসসিসির পরিবহন চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের ভোট চলছে

ঢাকার নগর ভবনে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন পরিবহন চালক ও শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
নির্বাচনে সভাপতি, কার্যকরী সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ২৩টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল অংশ নিয়েছে।
ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটার সংখ্যা ৬১০ জন। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
সভাপতি পদে সম্মিলিত পরিষদ থেকে চেয়ার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. শাহ আলম তালুকদার। অন্যদিকে একতা পরিষদ থেকে ট্রাক প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. জাকির হোসেন।
দুই প্রার্থীই তাদের নিজ নিজ প্যানেল থেকে পূর্ণাঙ্গ ২৩টি পদে প্রার্থী দিয়েছেন, ফলে প্রতিটি পদেই ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে।
একতা পরিষদের সভাপতি পদপ্রার্থী মো. জাকির হোসেন বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও প্রার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং জয়-পরাজয়কে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার মানসিকতা রয়েছে।
তিনি বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শাহ আলম তার ছোট ভাইয়ের মতো। নির্বাচনকে তারা প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখলেও সম্পর্কের জায়গায় কোনো দূরত্ব নেই। নির্বাচনে যেই জয়ী হোন না কেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার তাদের রয়েছে।
অন্যদিকে সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি পদপ্রার্থী মো. শাহ আলম তালুকদার বলেন, শ্রমিক-কর্মচারীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নির্বাচিত হলে ঘোষিত অঙ্গীকারগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী ও সেবামুখী শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, কোনো চালক বা শ্রমিক কর্মরত অবস্থায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবারকে এককালীন এক লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত সদস্যদের চিকিৎসা ব্যয় সংগঠনের পক্ষ থেকে বহনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সদস্যদের বিপদ-আপদে পাশে থাকা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখাই তাদের অঙ্গীকার।
ভোট দিতে আসা একাধিক ভোটার জানান, গত যতগুলো নির্বাচন তারা দেখেছেন, তার মধ্যে এবারের নির্বাচন সবচেয়ে সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্যভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা, মারামারি, ভোট জালিয়াতি বা অনিয়মের অভিযোগ নেই। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছেন।
তারা আরও বলেন, প্রার্থীদের আচরণ অত্যন্ত সহনশীল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ, যা পুরো নির্বাচনী পরিবেশকে আরও স্বস্তিদায়ক করে তুলেছে। সব মিলিয়ে ভোটের পরিবেশ উৎসবমুখর। শেষ পর্যন্ত একইভাবে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে-এমন প্রত্যাশা তাদের।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য