• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
হাসপাতালের শৌচাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, সাময়িক বরখাস্ত হলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে শেষ ধাপে সরকার এইচএসসি পরীক্ষায় এআই ব্যবহার করে নকল, পরীক্ষার্থী বহিষ্কার রাজধানীতে যুবদল কর্মী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের তাণ্ডব, নিহত অন্তত ৩০ জাতীয় অধ্যাপক হলেন শিক্ষাবিদ মাহবুব উল্লাহ ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী ৪০০ শালিক হত্যায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের নীতিমালায় সম্পাদকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

হামলায় নিজের বেঁচে ফেরার বর্ণনা দিলেন আরঘচি

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই স্থানে উপস্থিত থেকেও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে অলৌকিকভাবে জীবন বেঁচে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওই ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন তিনি।

ইরানি সাংবাদিক জাদ মৌগুয়িকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরঘচি জানান, হামলার ঠিক আগমুহূর্তে তারা খামেনির উপ-প্রধান কর্মী আলী আসগর হিজাজির কার্যালয়ে বৈঠক করছিলেন। সেখানে হিজাজির কাছে তিনি প্রতিবেদন উপস্থাপন করছিলেন। ঠিক এমন সময় কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে পরপর তিনটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে গোটা ভবন কেঁপে ওঠে। তৃতীয় বিস্ফোরণটি তাদের ভবনের ঠিক পাশেই ঘটেছিল, যার সরাসরি আঘাতে অফিস কক্ষসহ ভবনের বাম দিক পুরোপুরি ধসে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান হিজাজির সচিব।

মৃত্যুর হাত থেকে অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে আরঘচি বলেন, তারা ভবনের অন্য অংশে থাকায় ছাদ ও দেয়াল ধসে পড়ার পরও বেঁচে যান। সেখান থেকে বিম ও কাঠের স্তূপ সরিয়ে হিজাজির হাত ধরে চিৎকার শুনতে শুনতে তারা কোনোমতে ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে আসেন। পুরো চত্বরের বিভিন্ন অংশে একের পর এক লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত হানা হচ্ছিল।

পরবর্তী সময়ে সরকারি গাড়ি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এক পথচারীর সহায়তায় মন্ত্রণালয়ে পৌঁছান তিনি। জীবনের ঝুঁকি এড়াতে বর্তমানে তেহরানে নিয়মিত গাড়ি পরিবর্তন করে অবস্থান নিচ্ছেন এই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি স্বীকার করেন, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। যৌথ বাহিনী নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র নীতি পরিষদ ও প্রতিরক্ষা পরিষদের শীর্ষ পর্যায়ের যৌথ বৈঠক চলাকালে এই হামলা চালায়, যার ফলে প্রথম দিনেই শীর্ষ নেতৃত্বের বড় ক্ষতি করতে সক্ষম হয় তারা।

আরঘচি জানান, ওই ঘটনার পর তারা প্রায় তিন দিন সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিলেন।

খামেনির অবর্তমানে তার ছেলে মোজতাবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পেলেও আরঘচির সাথে এখনও তার সাক্ষাৎ হয়নি। তবে এই ধারাবাহিকতা বহাল থাকা বিশ্ববাসীর কাছে তেহরানের কঠোর অবস্থান ও নীতি অপরিবর্তিত থাকার সুস্পষ্ট বার্তা দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আরঘচি আরও বলেন, খামেনি আক্রান্ত হলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার একটি আগাম পরিকল্পনা সংবিধানের ‘কোড ১১০’ অনুসারে তৈরি করাই ছিল।

চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনের সাথে হওয়া কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে আরঘচি বলেন, সাফল্যের আশা সামান্য হলেও কূটনীতির পথ বেছে নেওয়া দরকার ছিল, যেন ইরানকে কেউ দোষারোপ করতে না পারে।

তিনি জানান, জেনেভায় শেষ দফা আলোচনায় চুক্তি প্রস্তাব দেওয়া হলেও ওমানের মধ্যস্থতাকারীরা জানান ওয়াশিংটন হঠাৎ যুদ্ধংদেহী মনোভাব ধারণ করেছে। এরপরের দিন সকাল ৯টার পরপরই যৌথ আক্রমণ শুরু করা হয়।

আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে সতর্ক করে আরঘচি স্পষ্ট জানান, তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোকে আগে থেকেই সাবধান করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের তেল ও পারমাণবিক স্থাপনা বা শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আঘাত হানলে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত করা হবে এবং গোটা অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানি অচল করে দেওয়া হবে। হাজার বছরের সভ্যতা ও শিয়া মতাদর্শের গভীরতা নির্দেশ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দুর্বল ভেবে আক্রমণ করলেও আত্মত্যাগের এই শক্তিকে সহজে পরাজিত করা সম্ভব নয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ভিওডি বাংলা/আর 

 

 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বার্লিন প্রাইড শোভাযাত্রায় হামলার সন্দেহভাজন পুলিশের গুলিতে নিহত
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে খাবার উৎসবে বন্দুক হামলা, নিহত ২
ছবি: সংগৃহীত
ইরাকে ভূমিকম্প অনুভূত