• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অভিযোগ ‘ষড়যন্ত্রমূলক’, ন্যায়বিচারের দাবি অধ্যক্ষের

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি    ৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪৫ পি.এম.
সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ ও স্বপদে পুনর্বহালের দাবি অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রতিবাদ ও স্বপদে পুনর্বহালের দাবি অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের শেষ সময়ে এসে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটানোর অভিযোগ তুলেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর এলাকার কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ মো. ফরিদ আহমেদ। নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে তিনি স্বপদে পুনর্বহাল এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে বোয়ালমারী বাজারের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রায় চার দশক শিক্ষা অঙ্গনে দায়িত্ব পালন করলেও চাকরির একেবারে শেষ সময়ে এসে তাকে মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত করা হয়েছে। বৃদ্ধ মা, অসুস্থ স্ত্রী, নিজের চিকিৎসা ব্যয় এবং সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে তিনি বর্তমানে হিমশিম খাচ্ছেন বলেও জানান।

অধ্যক্ষ ফরিদ আহমেদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কলেজের অভ্যন্তরে একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। তিনি দাবি করেন, কয়েকজন শিক্ষক-কর্মচারীর প্ররোচনায় কিছু বহিরাগত ও শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে পদত্যাগের দাবি জানায়। পরে একই বছরের ২৮ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

তার অভিযোগ, বরখাস্তের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কেও বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী অবহিত করা হয়নি। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে তাকে দায়িত্বের বাইরে রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। বরং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি তার ব্যাংক হিসাবও স্থগিত থাকায় দীর্ঘদিনের সঞ্চয় ব্যবহার করতে পারছেন না বলে দাবি করেন তিনি। এতে পরিবার নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটছে বলেও উল্লেখ করেন।

ফরিদ আহমেদ জানান, পরিস্থিতির প্রতিকার চেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের আদেশে চাকরি ও বেতন-ভাতার অধিকার ফিরে পেলেও এখনো তাকে কলেজে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, কলেজের একটি প্রভাবশালী পক্ষ এবং পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে কর্মস্থলে ফিরতে বাধা দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, অধ্যক্ষের সরকারি বাসভবন ছাড়তে তাকে চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। তিনি এতে সম্মত না হওয়ায় তার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরাও আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন বলে জানান তিনি।

ঘটনার জন্য কলেজের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. হোসনেয়ারা বেগম, কয়েকজন শিক্ষক এবং কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ফরিদ আহমেদ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কলেজে মানববন্ধন আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের অংশ নিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও তোলেন তিনি।

তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। কলেজসংশ্লিষ্ট কয়েকজন অভিভাবক ও শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মানববন্ধনে অংশগ্রহণের বিষয়ে কিছু শিক্ষার্থীর ওপর চাপ ছিল বলে তারা শুনেছেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে আবেগাপ্লুত হয়ে ফরিদ আহমেদ বলেন, তার চাকরির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি। এই সময়ে যদি তিনি দায়িত্বে ফিরতে না পারেন, তাহলে অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তিনি রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ন্যায়বিচার ও দ্রুত সমাধান কামনা করেন।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল দুই যুবকের
ছবি: সংগৃহীত
অস্ত্র মহড়ার আসামি বিএনপি নেতা বহিষ্কার
ছবি: সংগৃহীত
রাখাইন সংঘাতে টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি