• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিদেশিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত, বন্ধ ১৬ মেট্রো স্টেশন দুপুরের মধ্যে ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার জামায়াতের নাম থেকে ‘ইসলামী’ শব্দ বাদ দেওয়ার দাবি যুবদল সভাপতির সড়ক নিরাপত্তায় জবাবদিহিতা ও সমন্বিত বাস্তবায়নের আহ্বান বাংলাদেশের আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিচ্ছে সরকার ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু, নিয়োগ পাবেন ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ‘তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে’ ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে ইজারাবহির্ভূত দোকান উচ্ছেদ

বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিদেশিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

  নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ:  ২৩ জুলাই ২০২৬, ০১:০৫ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকায় আয়োজিত ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক ‘এফআইসিসিআই এফডিআই সম্মেলন ২০২৬’-এ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সকালে (২৩ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও এক্সপো অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

উক্ত সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি উদ্যোক্তা হোন কিংবা বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে কেউ মূলধন বিনিয়োগ করলে সরকারও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং সময়োপযোগী নীতিমালার মাধ্যমে তাঁর পাশে থাকবে। এটি শুধু আশ্বাস নয়, সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতে দেশি-বিদেশি অতিথি, ব্যবসায়ী নেতা, এফআইসিসিআইর সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানান। তিনি বলেন, আজকের সম্মেলনে দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের করপোরেট প্রধান, বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতি বাংলাদেশের প্রতি তাদের আস্থার প্রতিফলন। তাঁদের অনেকেই বাংলাদেশকে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তির প্রবর্তন ঘটেছে, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল সমৃদ্ধ হয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

নিজের কর্মজীবনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকে তিনি উপলব্ধি করেছেন, কোনো ব্যবসার সাফল্য শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং প্রবৃদ্ধি-সহায়ক সরকারি নীতিমালাও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও রয়েছে দ্রুত বিকাশমান একটি বড় অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও পরিশ্রমী মানবসম্পদ, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং নিরঙ্কুশ জনসমর্থনপুষ্ট একটি নির্বাচিত সরকার। এসব শক্তি বাংলাদেশকে টেকসই ও স্থায়ী সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় পরিচালিত একটি অর্থনীতি গড়ে তোলা। নির্বাচনী ইশতেহারে সেই অর্থনৈতিক রূপান্তরের সুস্পষ্ট রূপরেখা রয়েছে। শুধু বিনিয়োগ নয়, এই রূপকল্প বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ার জন্যও তিনি বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাঁচ মাস পূর্ণ হলেও অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রস্তুতির কাজ নির্বাচনের আগেই শুরু হয়েছিল। এ সময় বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়িক চেম্বার, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত নেওয়া হয়েছে।

তাঁদের মতামতের ভিত্তিতে সরকার বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, করব্যবস্থা সহজ করা, অর্জিত মুনাফা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করা, শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার আইনি ও রেগুলেটরি কাঠামোর আধুনিকায়ন করছে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করছে, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা উন্নত করছে, কর ও ভ্যাট প্রশাসন সহজ করছে এবং মুনাফা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াকে ঝামেলামুক্ত করছে। একই সঙ্গে গতিশীল পুঁজিবাজার গঠন, স্টার্টআপে উৎসাহ, অপ্রয়োজনীয় বিধিমালা ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য দূর করা, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি সেবাসমূহ ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো, বন্দর, লজিস্টিকস অবকাঠামো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাজেটে নবায়নযোগ্য শক্তি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি বৃহৎ উৎপাদন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা, তৈরি পোশাক শিল্পের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তি ও দক্ষতায় গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর নির্ভর করে না, বরং দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপরও নির্ভর করে। তিনি উপস্থিত ব্যবসায়ী নেতাদের সেই ভবিষ্যতের অংশ হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সবাই মিলে একটি সুদৃঢ়, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার অগ্রযাত্রায় অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনলেও কম দামে বিক্রি করছি: জ্বালানিমন্ত্রী
প্রতীকী ছবি
পুলিশের ৬ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি
ছবি: সংগৃহীত
গুজবে কান দেবেন না, তেলের সংকট নেই: মালিক সমিতি