• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১

চলতি মাসে রোডম্যাপ না দিলে

রাজনৈতিক শক্তিগুলো পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে: সালাহউদ্দিন

   ১ মার্চ ২০২৫, ০৪:৩৮ পি.এম.

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের গঠিত নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির ‘সেকেন্ড রিপাবলিক এবং গণপরিষদ নির্বাচন’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সালাহ উদ্দিন আহমেদ। শনিবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই প্রশ্ন তুলেন।

তিনি বলেন, ‘‘আমি পত্রিকায় দেখলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যতম লক্ষ্য সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠায় গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন… এটা তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলেছে। আমি সমালোচনা করতে চাই না। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই তার নিজস্ব কর্মপন্থা থাকবে, আদর্শ থাকবে, গঠনতন্ত্র এবং ঘোষনাপত্রে এরকম ঘোষণা থাকে। কেউ সমাজতন্ত্র চায়, কেউ অন্য কিছু চায়, কেউ হয়ত ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়… এরকম অনেক কিছু থাকে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রে। আমি নতুন বন্ধুদের বলতে চাই, সেকেন্ড রিপাবলিক… আমাদের বর্তমান রিপাবলিক কি অসুস্থ হয়ে গেছে? সেকেন্ড রিপাবলিক কখন হয়? রিপাবলিকের রিটারেল মানে কি? রিপাবলিক হচ্ছে যেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে তাদের একটা নমিন্যাল অথবা ইলেক্টেড হেড দি স্টেট থাকবে। সেটা কি আমাদের নেই? ”

‘গণপরিষদ দাবি: অন্য মতলব আছে’

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘গণপরিষদ কেনো হবে?এর মধ্যে তো আরও একটি উদ্দেশ্য আছে? যারা গণপরিষদের বিষয় সামনে আনছে যারা সেকেন্ড রিপাবলিকের বিষয় সামনে আনছে হয় তারা বুঝে না অথবা বুঝে আমাদের এই রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে আরো দীর্ঘায়িত অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মধ্যে নিয়ে যাওয়ার ষড়যন্ত্র আছে।”

তিনি বলেন, ‘যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কথা বলছে আমি সব সময় শুনি মাঠে-ঘাটে …বিফর দ্যা পার্লামেন্ট ইলেকশন তাদের একটি মতলব আছে। কারণ ৫ আগস্টের ছাত্র গণঅভ্যুত্থান কি মেম্বার-চেয়ারম্যান ইলেকশনের জন্য হয়েছিলো? দেশের পৌরসভা, উপজেলা চেয়ারম্যানদের নির্বাচনের জন্য কি ৫ আগস্ট হয়েছিলো? তাহলে তারা কেনো শুধু মেম্বার-চেয়ারম্যান ইলেকশনের জন্য  এই দাবি তুলেছে। একটা বিষয় আছে…. সেটা হচ্ছে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উত্তরণের পথটা যত দীর্ঘায়িত হওয়া যায় ততই বোধহয় তাদের লাভ… কারো ক্ষমতা দীর্ঘায়িত হবে আর কারো কারো মনবাসনা পূর্ণ হবে।”

রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে ‘ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ ফাউন্ডেশন(এনআরএফ)’ এর উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সংগ্রামে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের ত্যাগ ও নেতৃত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা এবং সৈয়দ আবদাল আহমেদে সম্পাদিত ‘নন্দিত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়।

‘এক মাসের আল্টিমেটাম’

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘পরিস্কার শুনে রাখুন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আপনাকে অতি শিগগিরই জাতীয় সংসদের নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রদান করতে হবে। যদি আপনি কোনো বাহানায় এই মাসের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রদান না করেন তাহলে সেটা আমরা রাজনৈতিকভাবে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলো বসে আমাদেরকে পুনরায় নির্ধারণ করতে হবে আমরা কোন প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এগুব।”

‘এনসিপির নবযাত্রাকে স্বাগতম’

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘কালকে(শুক্রবার) একটি রাজনৈতিক দলের শুভ সূচনা হয়েছে… আমাদের দলের পক্ষ থেকে রিজভী সাহেব(রুহুল কবির রিজভী আহমেদ) গিয়েছিলেন … আমরা স্বাগতম জানিয়েছি তার আগের দিন আমাদের দলের বর্ধিত সভা থেকে… এখান থেকে আমি তাদের(এনসিপি) নবযাত্রাকে স্বাগতম জানাই। কারণ বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা তো আমাদেরই দলের প্রতিষ্ঠাতা মহান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। গণতন্ত্রের মাঠে শত ফুল ফুটবে সেটাকে আমরা সব সময় স্বাগত জানাব।”

‘সেকেন্ড রিপাবলিক প্রসঙ্গে’

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘তাদের (এনসিপি) একটি উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলতে চাই… আমি পত্রিকায় দেখলাম, জাতীয় নাগরিক পার্টির অন্যতম লক্ষ্য সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠায় গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংবিধান প্রণয়ন… এটা তাদের অন্যতম লক্ষ্য বলেছে। আমি সমালোচনা করতে চাই না। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলেরই তার নিজস্ব কর্মপন্থা থাকবে, আদর্শ থাকবে, গঠনতন্ত্র এবং ঘোষনাপত্রে এরকম ঘোষণা থাকে। কেউ সমাজতন্ত্র চায়, কেউ অন্য কিছু চায়, কেউ হয়ত ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়… এরকম অনেক কিছু থাকে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক ঘোষণাপত্রে।”

‘গণপরিষদ প্রসঙ্গে’

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘নতুন সংবিধানের জন্য আপনারা (এনসিপি) কথা বলছেন, নতুন সংবিধান যেটা হবে সেটা সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাপক সংশোধনী প্রস্তাব আপনারা তো দিয়েছেন সংস্কার কমিশনে, আমরাও দিয়েছি। প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক সংস্কার বর্তমান জনআকাংখা এবং ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের যে প্রত্যাশা ও গণআকাংখা নিয়ে আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে সেই আকাংখাকে ঊর্ধেব তুলে ধরে তাদের চাহিদাকে প্রত্যাশাকে তুলে ধরে আমাদের সেই সংশোধনীগুলো আমরা সাজিয়েছি… নতুন স্বাধীনতা এবং নতুন বাংলাদেশের যে তরুণদের চাহিদা সেটাকে সামনে রেখে গুরুত্ব দিয়ে। সেই সংবিধানের নাম যদি আপনারা নতুন সংবিধান দেন ঠিক আছে। কিন্তু গণপরিষদ কেনো বললেন আমরা বুঝলাম না। গণপরিষদের ইংরেজি না হচ্ছে, কনস্টিটিউয়েন্ট এসেম্বলি… আগের যেটা মানুষ বলতে এমসিএ(মেম্বার অব কনস্টি্টিউয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) এটা অলওয়েজ ফর ইনসেপশন অফ এ এ্যানি ইন্ডিপেন্ডেন্ট কান্ট্রি… যে সময়ে দেশে কোনো সংবিধান রচিত থাকে না, সংবিধান হাতে থাকে না….মানে একটা নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা… তখন গণপরিষদের প্রয়োজন হয়… গণপরিষদের সদস্যরা সংবিধান প্রণয়ন করেন যে সংবিধানের ভিত্তিতে পরে পার্লামেন্ট ইলেকশন হয়।”

তিনি বলেন, ‘‘আমাদের এখানে গণপরিষদ নির্বাচনের জন্য আমরা কি নতুনভাবে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। রাষ্ট্র তো স্বাধীন আছে। আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।আমাদের যেভাবেই হোক একটা সংবিধান আছে যে সংবিধানটাকে এখনো পুরোপুরি ওন করি না বলে ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যে সংবিধানোকে শেখ হাসিনা দলীয়করণ করে গণতন্ত্রের বিপক্ষে নিজেদের পক্ষে সাজিয়েছিলেন সেজন্য সেটার সংস্কার দরকার।”

অন্তবর্তীকালীন সরকারের গঠিত সংস্কার কমিশনের প্রতি্বেদন প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘আপনারা বলেছেন, জাতীয় ঐক্যমত কমিশন আপনরা(প্রধান উপদেষ্টা) নেতৃত্বে হয়েছে… আমরা যাবো, একবার গিয়েছি। সেটা চলতে থাকবে। এই কাজ তো বন্ধ হবে না। সংস্কার, ৩১ দফা আমরা প্রদান করেছি ২০২৩ সালে বিএনপির পক্ষ থেকে আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। সেই সংস্কারের সাথে আপনাদের সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের বেশি অমিল নাই। কিন্তু যে সমস্ত বিষয় অমিল আছে সেগুলো নিয়ে কথা বলব। বাট তাতে আপনি নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে হবে সেটা তো মনে হয় না। যদি আপনারা কাউকে সময় দিতে চান, কাউকে অর্গানাইজ হতে দিতে চান বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকে সেটা অন্য কথা।”

‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে’

সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘যারা সেকেন্ড রিপাবলিকের ঘোষণাপত্র তাদের দলীয় ঘোষণাপত্রে রেখেছেন সেটা ওখানে থাক। যারা গণপরিষদের মধ্যে দিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়ন করতে চান সেটা আপনারা যখন পারবেন করবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় উত্তরণে আর যাতে কোনো বিলম্ব না হয় সেজন্য আমরা যাতে সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখি এটাই আমাদের আহ্বান। যেকোনো মূল্যে রাজপথে গড়ে উঠা ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যকে আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, ‘‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যে যদি কোনো রকমের ফাটল সৃষ্টি হয় তাহলে লাভবান হবে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তার দোসরা। এটাকে আমরা মাথা রেখে যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে লিপ্ত ছিলাম সকল রাজনৈতিক দল ও সামাজিক শক্তি আমরা যেন এই ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যটাকে তুলে ধরে আমাদের সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করি এই আহ্বান আমি জানাচ্ছি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য্ অধ্যাপক আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং এনআরএফ এর সদস্য সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক তাজমেরী এস এ ইসলাম, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, স্বেচছাসেবক বিষয়ক সহ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন,  স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর সহধর্মিণী বিথীকা বিনতে হোসাইন,  এনআরএফের আহ্বায়ক ও ‘নন্দিত নেত্রী খালেদা জিয়া’ গ্রন্থের লেখক সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমেদ প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।

ভিওডি বাংলা/এম


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম
শপথ নিলেন এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম
আমি আমার পূর্বের বক্তব্য সরিয়ে নিলাম: মামুনুল হক
আমি আমার পূর্বের বক্তব্য সরিয়ে নিলাম: মামুনুল হক
জামায়াতের সাবেক আমির নিজামীর ছেলে এনসিপিতে
জামায়াতের সাবেক আমির নিজামীর ছেলে এনসিপিতে