• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo
শিরোনাম
বাংলাদেশে বিনিয়োগে বিদেশিদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান দিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত, বন্ধ ১৬ মেট্রো স্টেশন দুপুরের মধ্যে ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার জামায়াতের নাম থেকে ‘ইসলামী’ শব্দ বাদ দেওয়ার দাবি যুবদল সভাপতির সড়ক নিরাপত্তায় জবাবদিহিতা ও সমন্বিত বাস্তবায়নের আহ্বান বাংলাদেশের আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দিচ্ছে সরকার ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালু, নিয়োগ পাবেন ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ‘তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে’ ধানমন্ডি রবীন্দ্র সরোবরে ইজারাবহির্ভূত দোকান উচ্ছেদ

১৪ বছর ধারাবাহিক ধর্ষণ, পুলিশ কর্মকর্তার ভয়াবহ অপরাধ ফাঁস

  ভিওডি বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৩ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৩ পি.এম.
শেয়ার করুন 0
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের শেষ দিকে। ত্রিশোর্ধ্ব এক নারী গ্লাসগো এলাকার একটি থানায় গিয়ে জানান, ২০১২ সালে একটি অপরাধের অভিযোগ জানাতে তিনি পুলিশ ডাকেন। দুই পুলিশ কর্মকর্তা তার বাসায় এসে অভিযোগ নিয়ে চলে যান।কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর ওই পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন ফের তার বাসায় এসে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

এই অভিযোগ পাওয়ার পর মামলাটি পুলিশের দুর্নীতি দমন ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তকারীরা ২০১২ সালের কল রেকর্ড ও দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের শনাক্ত করেন।

তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তা বারবার ওই নারীর মামলার তথ্য পুলিশের কম্পিউটার সিস্টেমে খুঁজেছেন। এমনকি ছুটিতে থাকাকালেও তিনি মামলার নথি দেখেছিলেন। এই ডিজিটাল তথ্যই শেষ পর্যন্ত পুলিশ কর্মকর্তা অ্যালান গ্রিয়ারকে চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্কটল্যান্ডের পুলিশ কর্মকর্তা অ্যালান গ্রিয়ারের ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে চালানো ধারাবাহিক ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও নারীদের ওপর নৃশংস হামলার তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি। 

অ্যালান গ্রিয়ার চলতি বছরের মে মাসে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর আগে তিনি পুলিশি তদন্তের মুখোমুখি ছিলেন।

স্কটল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত নয়জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন যৌনকর্মী। তদন্তকারীদের ধারণা, আরও অনেক নারী তার শিকার হয়েছেন।

গত ২৪ এপ্রিল ভোরে গ্রিয়ারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে সাতটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ জব্দ করা হয়।

ডিভাইসগুলো পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা হাজার হাজার ভিডিও ও ছবি উদ্ধার করেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, পুরো পুলিশি জীবনে তিনি শত শত যৌনকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন যৌনকর্মীকে গুরুতর যৌন নির্যাতনের শিকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, গ্রিয়ার জীবিত থাকলে কয়েকটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও আনা হতে পারত, কারণ নির্যাতনের মাত্রা ছিল অত্যন্ত নৃশংস।

এছাড়া আরও তিনজন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে দুইজন নারী পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। প্রশিক্ষণ চলাকালে তাদের অশোভন ছবি তুলেছিলেন গ্রিয়ার।

কিছুই জানতো না পরিবার: অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া অ্যালান গ্রিয়ার শৈশবে যুক্তরাজ্যে চলে আসেন। ২০০৯ সালে তিনি স্ট্র্যাথক্লাইড পুলিশে যোগ দেন এবং পরে পুলিশ স্কটল্যান্ডে কর্মরত ছিলেন।

সহকর্মী ও পরিবারের কাছে তিনি একজন স্বাভাবিক কর্মকর্তা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। তার স্ত্রী ও একটি সন্তান রয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, পরিবার কিংবা সহকর্মীরা তার এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।

তদন্ত চলাকালেই আত্মহত্যা: গ্রেপ্তারের পর গ্রিয়ারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর তদন্তকারীরা তার ডিভাইস থেকে একের পর এক অপরাধের তথ্য উদ্ধার করতে থাকেন।

পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সেবাকর্মীদের পাঠায়। এর একদিন পর, গত ৬ মে, গ্রিয়ার আত্মহত্যা করেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এই ঘটনা অনেকটা লন্ডনের সাবেক মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তা ওয়েইন কাউজেন্স কেলেঙ্কারির মতো। কাউজেন্স ২০২১ সালে সারাহ এভারার্ডকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

তবে পুলিশ স্কটল্যান্ডের সহকারী প্রধান কনস্টেবল লিন রেটক্লিফ বলেছেন, গ্রিয়ারের ক্ষেত্রে আগে কোনো সতর্কসংকেত উপেক্ষা করা হয়েছে—এমন প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০০৯ সালে গ্রিয়ার যে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় পুলিশে যোগ দিয়েছিলেন, বর্তমানে সেই ব্যবস্থা অনেক কঠোর হয়েছে। বর্তমান নিয়মে তিনি পুলিশে চাকরি পাওয়ার অনুমোদন পেতেন না বলেই তাদের ধারণা।

আরও ভুক্তভোগীর খোঁজ: তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। গ্রিয়ারের ডিভাইস থেকে উদ্ধার করা হাজার হাজার ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ চলছে। তিনি একাধিক ছদ্মনাম ও বিভিন্ন ফোন নম্বর ব্যবহার করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ স্কটল্যান্ড সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের সামনে এসে অভিযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, যারা তার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
হাসপাতাল থেকে ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দিচ্ছেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। ছবি: সংগৃহীত
আমি এখনো বেঁচে আছি: সোনম ওয়াংচুক
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন লাগার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন, হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি-যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর