• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
logo

দিল্লির প্রতিবাদের প্রতীক 'যন্তর মন্তর'

  ভিওডি বাংলা ডেস্ক
প্রকাশ:  ২৩ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৪ এ.এম.
শেয়ার করুন 0
দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থক। ছবি: সংগৃহীত
দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠনের কর্মী-সমর্থক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কোনো বড় আন্দোলন বা বিক্ষোভের খবর এলেই যে স্থানের নাম সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয়, সেটি হলো যন্তর মন্তর। প্রায় তিনশ’ বছরের পুরোনো এই স্থাপনা মূলত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান মানমন্দির হলেও সময়ের সঙ্গে এটি গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে।

১৭২৪ সালে নির্মিত যন্তর মন্তর আজও ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। তবে সাধারণ মানুষের কাছে এর আরেকটি পরিচয় আরও বেশি শক্তিশালী-এটি দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, অবস্থান কর্মসূচি ও গণসমাবেশের অন্যতম নির্ধারিত স্থান।

সম্প্রতি ভারতের শিক্ষা ও নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন জোরদার হয়েছে। বিতর্কিত নিট পরীক্ষাকে ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবিতে বহু শিক্ষার্থী যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও অনশনে বসেছেন।

এদিকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মও তাদের দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তরকেই কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও জাতীয় আলোচনায় উঠে এসেছে ঐতিহাসিক এই স্থান।

দিল্লিতে আন্দোলনের কেন্দ্র হিসেবে যন্তর মন্তরের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৩ সালে। সে সময় সংসদ ভবনের আশপাশে বড় ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। সরকারের যুক্তি ছিল, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারও বজায় রাখতে হবে।

এই ভারসাম্য রক্ষার অংশ হিসেবে যন্তর মন্তর রোডকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্দোলন ও গণসমাবেশের নির্ধারিত স্থান হিসেবে ব্যবহার শুরু হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, কৃষক, শ্রমিক ও নাগরিক সংগঠনের বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে এটি।

১৯৯৩ সালের আগে দিল্লির সবচেয়ে বড় প্রতিবাদস্থল ছিল রাজধানীর বোট ক্লাব এলাকা। সেখানে বড় বড় রাজনৈতিক সমাবেশ ও গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হতো।

তবে ১৯৮৮ সালে প্রায় পাঁচ লাখ কৃষকের বিশাল সমাবেশের পর পুরো এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা ও যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় সেখানে বড় সমাবেশ আয়োজন নিয়ে আপত্তি বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত বোট ক্লাবে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হলে প্রতিবাদের কেন্দ্র হিসেবে যন্তর মন্তরের গুরুত্ব বাড়তে শুরু করে।

দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হলেও যন্তর মন্তর সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন থেকে তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে রয়েছে। ফলে সেখানে বিক্ষোভ হলেও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তুলনামূলক কম প্রভাব পড়ে।

একই সঙ্গে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সহজে পৌঁছানো যায় বলে আন্দোলনকারীদের কাছেও এটি সুবিধাজনক স্থান হিসেবে বিবেচিত হয়।

২০১৮ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে জানায়, শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত প্রতিবাদ নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের অংশ। আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেয়, প্রতিবাদ অবশ্যই আইন মেনে এবং জনস্বার্থের কথা বিবেচনায় রেখে পরিচালনা করতে হবে। এই রায়ের পর যন্তর মন্তরকে ঘিরে আন্দোলনের সাংবিধানিক গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়।

চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এক শুনানিতে বেকার যুবকদের প্রসঙ্গে করা একটি মন্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে রাজনৈতিক কৌশলবিদ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি সংগঠন গঠন করেন।

অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে। পরবর্তীতে তাদের ডাকে রাজধানীতে বড় ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।

২০ জুলাই সিজেপির আহ্বানে হাজারো তরুণ-তরুণী ও শিক্ষার্থী সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রার চেষ্টা করলে যন্তর মন্তর ও কনট প্লেস এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দেয় এবং আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয় বলে বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

পরবর্তী পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিজেপির নেতৃত্ব জানিয়েছে, আপাতত নতুন কোনো সড়ক পদযাত্রা করা হবে না। তবে যন্তর মন্তরে তাদের অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

ভিওডি বাংলা/জা
 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
খাদ্য উৎপাদনে মারাত্মক ঝুঁকিতে বাংলাদেশ: জাতিসংঘ
ছবি: সংগৃহীত
লোহিত সাগরে হুথিদের হামলা, সৌদির দুই জাহাজে আগুন
ছবি: সংগৃহীত
মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে বাবার ১০৫ বছরের কারাদণ্ড