{# Dark-theme overrides for the above-the-fold critical surfaces. Inlined so dark users don't flash a light background while the async dark.css is still loading. #}
  • ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

শরিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, সমন্বয় জোরদারের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৯ এ.এম.
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে সরকার পরিচালনা, শরিকদের সঙ্গে সমন্বয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং আন্দোলনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বৈঠক শেষে শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সরকার পরিচালনায় শরিকদের মতামত ও পরামর্শকে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটকে সুসংহত করার লক্ষ্যেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। নির্বাচনের আগে বিএনপি ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকারে মাত্র তিনটি শরিক দলের তিনজন নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় কয়েকটি দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেও বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ যুগপৎ আন্দোলনের বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাইফুল হক, রফিকুল ইসলাম বাবলু, শাহাদাত হোসেন সেলিম, ফরিদুজ্জামান ফরহাদসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

তবে আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) বৈঠকে অংশ নেয়নি। একইভাবে আমন্ত্রণ পেয়েও কৌশলগত কারণে বৈঠকে যোগ দেয়নি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।

এ বিষয়ে জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েই যাইনি। তবে কেন যাইনি, সে বিষয়ে আমরা বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে একটি চিঠি দিয়েছি।’

জানা গেছে, ওই চিঠিতে জেএসডি উল্লেখ করেছে, জুলাই সনদ, গণভোট ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার আগে বিএনপির সঙ্গে পৃথক রাজনৈতিক বৈঠকে অংশ নেওয়া দলের নীতিগত অবস্থান ও জনগণের প্রতি দেওয়া অঙ্গীকার সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে তারা এ মুহূর্তে বৈঠকে অংশ নেয়নি। তবে রাষ্ট্র বা সরকারের উদ্যোগে সব রাজনৈতিক শক্তিকে নিয়ে জাতীয় সংলাপ হলে তাতে গঠনমূলকভাবে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছে দলটি।

নির্বাচনের পর শরিকদের অবস্থান

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক দলগুলোর জন্য ১৫টি আসন ছেড়ে দেয় বিএনপি। এর মধ্যে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া পাঁচটি দলের জন্য বরাদ্দ ছিল আটটি আসন। নির্বাচনে জয়ী হন গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির আন্দালিভ রহমান পার্থ এবং গণ অধিকার পরিষদের নুরুল হক।

পরবর্তীতে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক ও ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। অন্যদিকে আন্দালিভ রহমান পার্থকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি করা হয়।

এ ছাড়া কয়েকটি শরিক দলের নেতা নিজ নিজ দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন। তাঁদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁনকে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক না হলেও নির্বাচনী সমঝোতার অংশ হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামকে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে দলটি অংশ নেয়নি। গত জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জমিয়তকে চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু সভাপতি-মহাসচিবসহ দলটির কোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেননি। ওই চার আসনের একটিতে খেলাফত মজলিস, একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী, একটিতে জামায়াতে ইসলামী এবং অন্যটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী বিজয়ী হন।

নির্বাচনের পর ধর্মভিত্তিক রাজনীতিতে কওমি মাদ্রাসা ও জামায়াতপন্থী আলেমদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে বিতর্ক চলছে। এ সময় জমিয়তের সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক জামায়াতের আদর্শিক ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনাও করেছেন।

জানা গেছে, বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অবহিত করেই কৌশলগত কারণে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জমিয়ত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন,‘আমরা দাওয়াত পেয়েছি। কিন্তু আমরা এটাতে (বৈঠকে) যাব না, এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। কারণটা আমরা আপাতত বলছি না।’

যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক জোট গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাকে নির্বাচনে প্রার্থী করেনি বিএনপি। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনের আগে কিছুটা তিক্ততা তৈরি হলেও পরে তা আর সামনে আসেনি। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, তিনি গতকালের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, একজন শরিক নেতা বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানোর পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আমন্ত্রণপত্র মুখ্য সচিবের কার্যালয় থেকে পাঠানো হলেও পরে বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা টেলিফোনে যোগাযোগ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত রাজনৈতিক মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আলোচনায় সরকার গঠনের পর বিএনপির রাজনৈতিক সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। কয়েকজন নেতা বলেন, সরকারে আসার পর বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক তৎপরতা আগের মতো দৃশ্যমান নয়। একই সঙ্গে গত পাঁচ মাসে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রশ্নে বিএনপি সমালোচনার মুখে পড়েছে বলেও তারা মত দেন।

শরিকদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচন, স্থানীয় সরকারে প্রশাসক নিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে শরিকদের সম্পৃক্ত করা হয়নি। এতে বিএনপি ‘একলা চলো’ নীতি অনুসরণ করছে—এমন ধারণা তৈরি হয়েছে এবং শরিকদের মধ্যে দূরত্ব ও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

বৈঠকের শেষদিকে পরিবেশ কিছুটা প্রাণবন্ত করতে একজন নেতা রসিকতা করে প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই নৈশভোজ কি ‘ফেয়ারওয়েল ডিনার’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘না, এটি ওয়েলকাম ডিনার।’

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করা সম্ভব হয়নি।  প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, সরকার একটি ‘ধ্বংসস্তূপ’ থেকে কাজ শুরু করেছে এবং ভেঙে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে শরিক দলগুলোর সঙ্গে আরও নিয়মিত মতবিনিময় এবং আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুলের প্রতিক্রিয়া

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর এ বৈঠক একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছরের আন্দোলন, কারাবরণ, মামলা, গুম ও হত্যার স্মৃতিকে ঘিরে বৈঠকে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি জানান, শরিক দলগুলোর নেতারা সরকারের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আইনে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠক শেষে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ভিওডি বংলা/বিন্দু


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
শরিকদের সঙ্গে তারেক রহমানের মিটিং সোমবার
নৈতিক শিক্ষা থাকলে সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব: আলাল
নৈতিক শিক্ষা থাকলে সমাজে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব: আলাল
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই সনদের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর বসা উচিত: রিজভী