জিয়াউর রহমানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মোজাফফর

গোয়েন্দা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন সাবেক সেনাকর্মকর্তা মো. মোজাফফর হোসেন। বর্তমানে তিনি সেনা হেফাজতে আছেন।
মোজাফফর জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানিয়েছেন যে, নিবন্ধনহীন ও বেনামে নিবন্ধনকৃত একাধিক সিমকার্ড ব্যবহার করে ওয়ান ইলেভেনের বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতেন।
তার মেয়ে একটি বেসরকারি মোবাইল সিম অপারেটর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনিই বাবাকে নামে-বেনামে রেজিস্ট্রেশন করা নম্বরগুলো দিয়ে সহায়তা করেছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত এই সেনা কর্মকর্তার অবস্থান শনাক্তের পর বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে বনানীর ডিওএইচএসের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিভিন্ন মোবাইলফোন অপারেটরের নম্বর ও অ্যাপে কথোপকথনের সূত্র ধরেই শনাক্ত করা হয় ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা এই সেনাকর্মকর্তাকে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে জানা গেছে, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিপ্লব সরকার ও জয় ব্যানার্জি নাম ধারণ করে ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর দেশে ফেরেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে ছদ্মনামে কথা বলতেন মোজাফফর। সন্দেহভাজন নম্বরগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত কাজ করতে গিয়ে ‘জন ডো’ বলে একটি নাম পাওয়া যায়।
মাসুদ গ্রেপ্তারের পর তার পিএস ফারুকের সঙ্গেও কথা বলতেন মোজাফফর। লোকেশন গোপন করার জন্য ব্যবহার করত ভিপিএন।
চলতি বছরের ২৪ মার্চ রাজধানীর বারিধারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত চলমান আছে। আর মোজাফফরের মামলাও এই ট্রাইব্যুনালে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মোজাফফর প্রথম জাতীয় রক্ষীবাহিনীতে (জেআরবি) কমিশন পেয়েছিলেন এবং ১৯৮১ সালে ২৪ পদাতিক ডিভিশনে কর্মরত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় আত্মগোপন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
এ প্রসঙ্গে শুক্রবার (১৭ জুলাই) কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফরকে সেনা হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। যে আইনে এ হত্যার বিচার করা হয়েছিল সে আইনেই তার বিচার করা যায়। বিষয়টি সেনাবাহিনী খতিয়ে দেখছে।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য