• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

মার্কিন স্থাপনায় হামলা করে জবাব দিলো ইরান, হরমুৃজ বন্ধের ঘোষণা

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ১২ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক হামলার জবাবে তেহরান উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক উত্তেজনার পর রোববার উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়। এর আগে বাণিজ্যিক জাহাজে একাধিক হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেছে বলে ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তিনি আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলেও ইঙ্গিত দেন।

ইরান জানায়, অনুমোদনহীন পথে চলাচলকারী একটি জাহাজকে সতর্ক করতে গিয়ে গুলি ছোড়ার পর হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা হয়। পরে আরেকটি জাহাজও অচল করে দেওয়ার দাবি করে তেহরান। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, “এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত” হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।

তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ এখনও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হতো।

সেন্টকমের দাবি, শনিবার ইরানের ১৪০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। তিন রাতের অভিযানে মোট ৩০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার সক্ষমতা দুর্বল করা।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির কয়েকটি বন্দর শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি দাবি করেছে, তারা জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের একটি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং ড্রোন হ্যাঙ্গার ধ্বংস করেছে। এছাড়া কুয়েতে একটি মার্কিন রাডার স্থাপনা, ওমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর সহায়ক ও জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম এবং কাতারে একটি যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র ও কমান্ড স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

কাতার সরকার জানিয়েছে, হামলার সময় উড়ে আসা ধ্বংসাবশেষে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এবার ইরান আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত পরিসরে এবং নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। বিশেষ করে কাতারে হামলা তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এদিকে যুদ্ধের কারণে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিরতা বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে কার্যত অবরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিও আসন্ন কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বলেছেন, চুক্তি কার্যকর রাখতে হলে উভয় পক্ষকেই তা মেনে চলতে হবে।

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “একমুখী চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আগেই বলেছিলাম—কথা রাখুন, না হলে মূল্য দিতে হবে।”

এরই মধ্যে ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি বৈঠক করেছেন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার সম্ভাব্য ব্যবস্থা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। ওমান জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক পর্যায়ে এ আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির এক লিখিত বার্তায় তার নিহত পূর্বসূরি ও পিতার হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বার্তায় বলা হয়, “শহীদ নেতাসহ সব শহীদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করছি।”

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা এখনও জনসমক্ষে উপস্থিত হননি।

সূত্র: রয়টার্স

ভিওডি বাংলা/বিন্দু 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
উত্তেজনার মধ্যে ইরান-পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ, কী কথা হলো
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন কংগ্রেসম্যান রো খান্নাকে 'আটক' রাখার অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে
ছবি: সংগৃহীত
কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি মারা গেছেন