জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা হতে দেব না: এমপি খোকন

মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের ওপর কোনো হামলা সহ্য করা হবে না। যারা হামলা চালিয়েছে বা চালাবে, তাদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সময়ে সংঘটিত গুম, খুন ও নির্যাতনেরও বিচার একদিন বাংলাদেশের মাটিতেই হবে।
বুধবার (৮ জুলাই) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত 'মননে জুলাই' শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৯৪ সালে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্রদলের মিছিলে অংশ নেন। পরে দীর্ঘ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার ঘোষণা দিলে, তার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এ প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রচেষ্টায় সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
আলোচনা সভায় প্রদর্শিত একটি ভিডিওচিত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষতবিক্ষত মানচিত্রে একটি শিশু যেভাবে লাল-সবুজের রঙ দিয়ে মানচিত্রকে পূর্ণতা দিচ্ছিল, সেটি গত ১৭ বছরের বাংলাদেশের প্রতীক। তার ভাষায়, শহীদদের রক্তই সেই লাল রঙ, আর দেশের মানুষের সংগ্রাম ও দেশপ্রেমই সবুজের প্রতীক, যা বাংলাদেশের পতাকা ও মানচিত্রকে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা দেশকে অন্যের কাছে জিম্মি রেখেছিল, তারা বাংলাদেশকে ভালোবাসেনি। ২০০৮ সালে তারা সেই অবস্থার ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় আসে। বিপরীতে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশি সমর্থনে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, তারেক রহমানের ওপর নির্যাতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা গ্রহণে বাধ্য করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, বিগত সময়ে শুধু রাজনীতিক নন, সাংবাদিক, পেশাজীবী, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে পুরো দেশকে জিম্মি করে রাখাই ছিল সেই সময়ের শাসনের উদ্দেশ্য।
নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তিন মাস ১৭ দিন গুম থাকার পর ফরিদপুরের কানাইপুর এলাকায় তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে র্যাব কার্যালয়ে একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে জানতে পারেন, তাকে 'পার্সেল' হিসেবে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ ছিল। আল্লাহর রহমতে তিনি প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের পর গুম হওয়া সহযোদ্ধাদের সন্ধান পাওয়ার আশা আরও বেড়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুম হওয়া তিনজন সহযোদ্ধার কথা স্মরণ করে তিনি আবেগাপ্লুত হন এবং বলেন, তাদের ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
জুলাই আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এই আন্দোলন দেশকে রক্ষা করা, জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রের মর্যাদা রক্ষা করার শিক্ষা দিয়েছে। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে যারা ছিলেন, প্রত্যেকের অবদানই সমানভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।
তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সকল ধরনের কষ্ট ও নির্যাতন যিনি সহ্য করেছেন, তিনি হচ্ছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। নির্যাতিত মানুষ ও নির্যাতিত পরিবারের অভিভাবক হিসেবে তিনি ছায়ার মতো পাশে আছেন।"
জুলাই শহীদ পরিবার, গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার এবং জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অভিভাবক হিসেবে তারেক রহমান রয়েছেন এবং তিনি দেশের পাশাপাশি এসব পরিবারের প্রতিও দায়িত্ব পালন করছেন।
শেষে তিনি বলেন, "খুনিদের বিচার একদিন বাংলাদেশের মাটিতে হবেই, ইনশাআল্লাহ। আমরা সেই বিচার চাই। পাশাপাশি যারা জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা করেছে বা হামলার চেষ্টা করছে, আমরা বেঁচে থাকতে তা হতে দেব না। যারা জনসভায় হামলা করেছে, তাদের গ্রেপ্তার ও বিচার হবে। জুলাইয়ের চেতনায় বিশ্বাসী সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"
ভিওডি বাংলা/এম আই








মন্তব্য