• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

জাদুঘরে জাপানি স্থপতির নকশায় নির্মাণ হবে গ্রন্থাগার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৫ পি.এম.
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। ছবি: ভিওডি বাংলা
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। ছবি: ভিওডি বাংলা

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিশ্বখ্যাত জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর নকশায় আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে জাপান। একই সঙ্গে দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘরের আধুনিকায়ন এবং শিল্প-সংস্কৃতি বিনিময় কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের শুরুতে সংস্কৃতি মন্ত্রী জাপানের নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে তাঁর দায়িত্ব পালন সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই জাপান বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে পাশে রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্ব দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছে।

মন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত খাতে জাপানের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় ১৯৮২ সালের সাংস্কৃতিক চুক্তি এবং ২০০৫ সালে স্বাক্ষরিত সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির (সিইপি) বিষয়টি উঠে আসে। বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই কর্মসূচি নবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের সংস্কৃতি, শিল্প, সাহিত্য ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের আদান-প্রদান আরও বিস্তৃত করতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

তিনি এ বিষয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরে নির্মাণাধীন আধুনিক শিশু গ্রন্থাগার। ২০২৩ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় বিশ্বখ্যাত স্থপতি তাদাও আন্দোর নকশায় এই গ্রন্থাগার নির্মিত হচ্ছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি গ্রন্থাগার নয়; বরং বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতীক হয়ে উঠবে। শিশুদের পাঠাভ্যাস, সৃজনশীলতা, জ্ঞানচর্চা এবং মানসিক বিকাশে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রকল্পটির বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পন্ন করতে জাপান দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকশিল্প ও চারুকলার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীতে জাপান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অংশগ্রহণ করবে।

এ ছাড়া সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘরের আধুনিকায়ন, প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা, বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি বিনিময়, গ্রন্থাগার এবং আর্কাইভ ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা শেষে সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে শুভেচ্ছা উপহার ও স্মারক ক্রেস্ট বিনিময় করা হয়। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক উন্নয়ন, ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
পরিবেশ সচিবকে প্রত্যাহার
ছবি: সংগৃহীত
সাধারণের জন্য এনআইডি সংশোধন সাময়িক বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত
সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী