মৎস্য উপদেষ্টা
তরুণ প্রজন্ম হচ্ছে ‘পোল্ট্রি-ভাতে বাঙালি’

নিজস্ব প্রতিবেদক
মৎস্যকে শিল্পে রূপ দিলে এটির মূল চরিত্রই নষ্ট হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ‘তরুণেরা মৎস্যখাতে কাজ করার জন্য যে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, এটা অত্যন্ত উৎসাহের বিষয়। মৎস্যকে শিল্প বানালে এর মূল চরিত্র নষ্ট হয়ে যাবে।’
এ সময়ে তরুণ প্রজন্মকে ‘পোল্ট্রি-ভাতে বাঙালি’ বলে আখ্যায়িত করেন উপদেষ্টা। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিনব্যাপী ‘ফিসারিজ এন্টারপ্রেনার সামিট-২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি বলি। কিন্তু আমাদের তরুণ প্রজন্ম কি মাছে-ভাতে বাঙালি? ওরা কিন্তু পোল্ট্রি-ভাতে বাঙালি হয়ে যায়। অনেক সময় ডিম আর মাংস ছাড়া খেতে চায় না। নতুন প্রজন্মকে মাছ খাওয়াতে হবে।’
‘আন্তর্জাতিকভাবে দেখি, ইন্ড্রাষ্টিয়াল ফুড প্রোডাকশনের যে ক্ষতিকারক দিক রয়েছে, সেটা অনেকভাবে প্রভাবিত করবে। আপনারা শিল্প না লিখে এন্টারপ্রেনার লিখেছেন, খুশি হয়েছি। কারণ এন্টারপ্রেনার অনেক ক্রিয়েটিভ কাজ করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাচ্চাদের ছোট মাছ খাওয়ানো শিখাতে হবে। মাছের একটা অপরাধ হচ্ছে তাদের কাঁটা আছে। কাঁটার জন্য খাবে না, এটা তো হবে না। কাঁটাসহ মাছ খাওয়া শেখাতে হবে। মাছকে জনপ্রিয় করে তোলবার জন্য কাজ করতে হবে।’
‘পানি দূষণ ও জলাশয় ভরাটের কারণে মাছ উৎপাদন ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের দেশে এত বৈচিত্র্যময় মাছ আছে। এর সঙ্গে বৈচিত্র্যময় পরিবেশও আছে। তবে দুঃখের বিষয় আমাদের নদীগুলো দূষিত হয়ে গেছে।’
ফরিদা আখতার বলেন, ‘কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে। আমাদের জলাশয়গুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে মাছ টিকবে না। সমস্যাগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট হওয়ায় সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য দেশে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন যেন আমরা করতে পারি সে লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
ভিওডি বাংলা/ এমএইচ







