জুতার সূত্র ধরে শিপ্রা হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের চাঞ্চল্যকর ও আলোচিত শিপ্রা রানী দাস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
দীর্ঘ চার বছর মামলটি তদন্ত শেষে মামলার প্রধান ও পলাতক আসামি তাজুল ইসলামকে সোমবার (২২ জুন) ভোরে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলেও জানায় পিবিআই।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদ সম্মেলনে মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারের তথ্য তুলে ধরেন পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা। তিনি জানান, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী রেলস্টেশন এলাকা থেকে তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল শিপ্রা রানী দাসকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন।
শচীন চাকমা জানান, নাসিরনগর উপজেলার ভলাকুটের বাসিন্দা শিপ্রা রানী দাস। জীবিকার তাগিদে নরসিংদীর কালু সাহা বাবুর্চির সাথে রান্নার সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২০২১ সালের ১ অক্টোবর কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। পরে নিখোঁজের চারদিনের মাথায় ৪ অক্টোবর নবীনগর থানার নবীপুর এলাকার একটি নির্জন ফসলি জমি থেকে শিপ্রার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে নবীনগর থানা পুলিশ। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সবিনয় দাস ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি নবীনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ সময়েও মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামিদের শনাক্ত করতে না পারায়, মামলাটি নবীনগর থানা থেকে তদন্তের ভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তে নেমে পিবিআই জানতে পারে, গ্রেপ্তার হওয়া বাবুর্চির সহযোগী তাজুল ইসলামের সাথে নিহত শিপ্রা রানী দাসের প্রায় ৬ থেকে ৭ মাস ধরে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ সময় তারা সিলেট শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে একসাথে রাত যাপন করেন। তারা একে অপরের প্রতি ঘনিষ্ঠ হওয়ার এক পর্যায়ে শিপ্রা রানী দাস তাজুল ইসলামের কাছে এনজিওর ঋণ পরিশোধের জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাদের গোপন শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়ার হুমকি দেন। এতে লোকলজ্জার ভয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে তাজুল ইসলাম তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
পিবিআই’র ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন তাজুল ইসলাম শিপ্রা রানী দাসকে নৌকাযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার মেঘনার তীরবর্তী চরলাপাং এলাকার নবীপুরের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি ফসলি জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তাজুল। এ সময় তাজুলের পায়ে থাকা জুতাও পড়ে থাকে নিহতের মরদেহের পাশে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মামলাটির তদন্ত চলাকালে পিবিআই এর আগে আরেক সহযোগী আসামি বাবুর্চি কালু সাহাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে তার কাছে হত্যাকাণ্ডের সম্পর্কিত তেমন তথ্য পাওয়া যায়নি।
সর্বশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই’র এসআই মো. শাহাদাত হোসেনের উপর পরে। পরে তদন্তকারী অফিসার শাহদাত আসামি তাজুলের ফেলে যাওয়া জুতার সূত্র ধরে ও আধুনিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই মামলার রহস্য উদঘাটনে আধুনিক প্রযুক্তি ও পেশাদার তদন্ত কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আসামি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান পিবিআই পুলিশ সুপার।
এছাড়া গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও জানান সংবাদ সম্মেলনে।
ভিওডি বাংলা/এফএ







