ঈদ ঘিরে পশুর হাটে র্যাবের নিরাপত্তা জোরদার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের পশুর হাটগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদ পূর্ববর্তী সময়ে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ ও জনসাধারণের নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে গবাদিপশুর বড় বড় হাটগুলোতে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে সারাদেশে সমন্বিত নিরাপত্তা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ হাটগুলোতে চেকপোস্ট, টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
রোববার (২৪ মে) ঈদ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানীর অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট গাবতলী হাট পরিদর্শন করেন র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা।

তিনি হাটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে তিনি হাটে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম, নজরদারি টাওয়ার এবং নিরাপত্তা টহল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপরাধ দমনে র্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
র্যাব জানিয়েছে, ঈদের সময় পশু পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে কিছু অপরাধমূলক চক্র সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে। বিশেষ করে নগদ অর্থ লেনদেনের সময় ছিনতাই ও প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
এছাড়া প্রতিটি ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় রোবাস্ট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পশুর হাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে র্যাব কন্ট্রোল রুম স্থাপন করেছে, যেখানে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটর করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে হাটের ভেতরের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভোগান্তি কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। র্যাব জানিয়েছে, প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য বিশেষ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

হাটে বড় অঙ্কের নগদ লেনদেনের কারণে প্রতারণা ও জাল টাকার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ক্যাশলেস লেনদেন যেমন মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ড ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ সরঞ্জাম হাটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জাল টাকা তৈরি ও বিতরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঈদ মৌসুমে কিছু অসাধু চক্র পশুবাহী যানবাহনকে জোরপূর্বক নির্দিষ্ট হাটে নেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। এ ধরনের কার্যক্রম প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদ ও কোরবানিকে কেন্দ্র করে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হলে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







