সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি সেতুমন্ত্রীর

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার সমন্বিতভাবে কাজ করছে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষ চালক তৈরি, আনফিট যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২২ মে) কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ড আয়োজিত সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় চেক বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০০০-৪৫০০ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, আনফিট যানবাহন, অদক্ষ চালক ও জনসচেতনতার অভাব—এই তিনটি বিষয় দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তাই এসব বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সড়ক পরিবহন বলেন, শুধু জনগণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানালেই হবে না, পরিবহন মালিক, চালক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামানো যাবে না এবং দক্ষ চালকের হাতেই যানবাহনের দায়িত্ব দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ, নিরাপদ ইউটার্ন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সড়ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র হয়তো হারিয়ে যাওয়া স্বজন ফিরিয়ে দিতে পারবে না, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকবে। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নিহত হলে সেই পরিবারকে কীভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সরকার তা নিয়ে কাজ করছে। শিক্ষা, চাকরি ও অন্যান্য সেবায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাফিক আইন মেনে চলা, দক্ষ চালক তৈরি এবং যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ সময় আসন্ন ঈদযাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে আয়োজিত সভায় কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের মাঝে মোট ১১৯ টি চেকের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মু. রেজা হাসানের সভাপতিত্বে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া প্রমুখ।
এর আগে, সকালে আসন্ন ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় টোলপ্লাজার সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন তিনি এবং যাত্রীসেবা আরো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
ভিওডি বাংলা/সবুজ/এফএ







