রাইসা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, রাইসা হত্যাকাণ্ড দেশের মানুষের হৃদয়কে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ সমূহের সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের আয়োজনে দেশব্যাপী' হাম'-এর প্রাদুর্ভাব :স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় এবং জনসচেনতা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, রাইসার ঘটনা আমাদের সমাজের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। সরকার তাদের পাশে রয়েছে।
তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। অপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর মতো হামও এখন বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। অতীতে হাম থাকলেও বর্তমান সময়ে এর ভয়াবহতা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ চিকিৎসা জীবনে এ ধরনের পরিস্থিতি খুব কম দেখেছি। আগে হাম হলেও এত জটিলতা বা আইসিইউ প্রয়োজন হতো না। এখন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক কমে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শিশুদের পুষ্টিহীনতা, ভিটামিনের ঘাটতি এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবের কারণেও পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে।
একসময় নিয়মিত ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি চলমান ছিল, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত।
মন্ত্রী বলেন, “হাম নিয়ে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা বাড়াতে হবে। টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সময়োপযোগী পদক্ষেপ এবং টিকাদান কার্যক্রমের ফলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে। পাশাপাশি গণমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।
এ জেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। যেকোনো ধরনের নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলে এসিড সন্ত্রাস দমনে নেওয়া কঠোর আইনি পদক্ষেপের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, কঠোর শাস্তির কারণেই দেশে এসিড সহিংসতা অনেক কমে এসেছে। বর্তমান সরকারও নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একই ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের গর্ভনিং বডির চেয়ারমান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হকের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এমপি, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা (সুমী), আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতাল শিশুরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সুফিয়া খাতুন প্রমুখ।
ভিওডি বাংলা/জা







