• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

এআই ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১৫ মে ২০২৬, ০৪:২০ পি.এম.
প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন ও গণমাধ্যম খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এর অপব্যবহার ও নৈতিক ঝুঁকি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এ প্রযুক্তি ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এই প্রযুক্তি যেন সৃজনশীল শিল্পে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে, সেটিই সরকারের লক্ষ্য। সরকার এআই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের (এনআইএমসি) মিলনায়তনে আয়োজিত একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। “চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন পরিবেশনা ও বিপণনে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গুজব ও অপতথ্য বিস্তার রোধ কৌশল” শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই) যৌথভাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণ, বিজ্ঞাপন ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে এআই এখন একটি শক্তিশালী টুল হিসেবে কাজ করছে। তবে এই প্রযুক্তি যেন ভুল তথ্য ছড়ানোর হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এআই যেন সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে নীতিগত কাঠামো ও নৈতিক চর্চা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

কর্মশালায় বক্তারা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হওয়া ডিপফেক ভিডিও, ভুয়া কনটেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় বটের মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, এসব অপতথ্য সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী ফ্যাক্ট-চেকিং ব্যবস্থা এবং অ্যালগরিদমিক শনাক্তকরণ পদ্ধতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাবিব নাজমুস ছাকিব। তিনি চলচ্চিত্র শিল্পে ডি-এজিং প্রযুক্তি, ভার্চুয়াল প্রোডাকশন এবং ভয়েস ক্লোনিংয়ের মতো আধুনিক এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

একইসঙ্গে তিনি বলেন, এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে লেখকত্ব, নৈতিকতা ও সেন্সরশিপ সংক্রান্ত নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, যা নিয়ে এখনই চিন্তাভাবনা করা জরুরি।

বিসিটিআইয়ের প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় আরও বক্তব্য দেন যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রওনক জাহান।

এছাড়া প্রবীণ চলচ্চিত্র পরিচালক রফিকুজ্জামান বলেন, “সিনেমার মূল শক্তি মানুষের আবেগ ও অনুভূতি। তাই মূলধারার চলচ্চিত্রে এআই ব্যবহারে অত্যন্ত সতর্ক থাকা প্রয়োজন।”

অন্যান্য আলোচকদের মধ্যে ছিলেন- অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিস্তার জাহান কবীর, মেন্টর রফিকুল আনোয়ার রাসেল, শিক্ষক আল আমিন রাকিব তনয় এবং মনজ়ুরুল হক সালেহ।

ভিওডি বাংলা/ জা 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
এক লাখ কোটি ছাড়াল স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য
এক লাখ কোটি ছাড়াল স্যামসাংয়ের বাজারমূল্য
ডিআরইউতে এআই সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিন আজ
ডিআরইউতে এআই সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণের তৃতীয় দিন আজ
হ্যাকারের ফাঁদে ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট
হ্যাকারের ফাঁদে ৩০ হাজার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট