ওরা ডাকাত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়

রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে থানা থেকে লুট হওয়া ২ সেট হ্যান্ডকাপ, ১টি বিদেশী পিস্তল, ম্যাগাজিন, এ্যামোনিশন, মাইক্রোবাস, র্যাবের কটি ও ওয়াকিটকি সেটসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তারাই সড়ক-মহাসড়কের সেই আতঙ্ক, যারা কখনো থানা বা ডিবি পুলিশ, কখনো সেনাবাহিনীর যৌথঅভিযানের সাজে হুবুহু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাকে প্রস্তুত হয়ে বাস, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে লুট করে নেয় নগদ টাকা, স্বর্ণ ও মালামাল।
শনিবার (২ মে) কারওরান বাজার র্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে রাজধানীর ডেমরা থানাধীন আমান মার্কেট মেন্দিপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. আলামিন ওরফে মোটা আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্যে একইদিন সকাল ১১ টায় মেন্দীপুর বাজার থেকে ৮০০ মিটার দূরত্বে হাজী সিএনজি পাম্প এলাকা থেকে সহযোগী মো. রায়হানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের কাছে ১টি বিদেশী পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৪ রাউন্ড গুলি, ১টি মাইক্রোবাস, গাড়ির ২টি ভুয়া নম্বর প্লেট, র্যাবের ৬টি কটি (জ্যাকেট), ২টি হ্যান্ডকাপ, ১টি ওয়াকিটকি, ১টি পুলিশ লেখা স্টিকার, ১টি লেজার রশ্মি লাইট, ২টি পুলিশ বাটন, ১টি ওয়াইফাই পকেট রাউটার, ১টি সেনাবাহিনী মাস্ক এবং ২টি স্মার্টফোন পাওয়া যায়।
গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে পরিচালক বলেন, তারা একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। দীর্ঘদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস আটক করে কখনও র্যাব পরিচয়ে চালক ও যাত্রীদের অস্ত্র প্রদর্শন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে সব লুটে নিয়েছে।
চক্রটি আলামিনের নেতৃত্বে কখনও পুলিশের ট্যাগ ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে আবার কখনও যৌথ অপারেশনের নামে সেনাবাহিনীর মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ডাকাতি করত। আলামিন ইট বালি ও মুরগির ব্যবসা করত। বর্তমানে ব্যবসা বন্ধ রয়েছে।
ওই র্যাব কর্মকর্তা জানান, রায়হান পেশায় গাড়ি চালক। তিনি বিভিন্ন সময়ে ডাকাতির ধরণ অনুযায়ী মিনি ট্রাক, মাইক্রোবাসসহ চাহিদা অনুযায়ী যানবাহন সরবরাহ করে নিজে চালকের ভূমিকা পালন করত। ডাকাতির পূর্বে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ, ডাকাতির সময় ও ডাকাতি শেষে ঘটনাস্থল হতে পলায়ন এবং ডাকাতির মালামাল পরিবহনের দায়িত্ব পালন করত।

র্যাব জানায়, আলামিন ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি কেরানীগঞ্জ মডেল থানা এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী নাহিদ ও খোকনের কাছ থেকে র্যাব পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
গেল বছরের ২৫ মে ডাকাতি মামলায় র্যাব কর্তৃক গ্রেপ্তার হয় এবং ছাড়া পেয়ে আবার ডাকাতি শুরু করে। তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল জেলা সদর থানা এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, চুরি এবং অস্ত্র আইনে ৮টি মামলা রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/জা







