জিয়া পরিষদের নামে ‘দোকান’ খুলবেন না: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জিয়া পরিষদের নামে কেউ যেন ব্যক্তিস্বার্থে “দোকান” না খোলে। তিনি বলেন, সংগঠনটি গবেষণামূলক কাজে মনোযোগ দিক, সেটিই প্রত্যাশা।
শনিবার (২ মে) দুপুরে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ডা. মো. আবদুল কুদ্দুসের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে। নতুন করে আরেকটি সহযোগী সংগঠনের প্রয়োজন নেই। বরং জিয়াউর রহমানকে নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার। তিনি বলেন, “জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা চাই না। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। তারা গবেষণামূলক কাজ করুক, সেটিই প্রত্যাশা।”
সরকার পরিচালনায় এসে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি দেখতে পাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথে এসব বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সততার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সততা ছাড়া ভালো কাজ সম্ভব নয়। বর্তমানে দেশে মসজিদ-মন্দির নির্মাণেও দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশে এমন একটি সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল যেখানে তদবির ছাড়া কাজ হতো না। কেউ কেউ ভাইস চ্যান্সেলর হওয়ার জন্যও তদবির করেছেন, যা দুঃখজনক।
ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে আলোচনা হওয়া ভালো, তবে রাজনৈতিক স্বার্থে এসব ব্যবহার করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, জুলাই সনদের বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপি মতামত দিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নমতও জানিয়েছে। উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতি ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে তারা একমত নয়। সবকিছু সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
সংস্কার প্রশ্নে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে বিএনপি সংস্কার চায় না, অথচ বিএনপিই সংস্কারের পথিকৃৎ। জিয়াউর রহমান প্রথম সংস্কার এনেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এখন অযথা তর্ক-বিতর্কে সময় নষ্ট না করে দেশের অর্থনীতি ঠিক করাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে সংকট উত্তরণ সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত করতে হবে এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। না হলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও ক্ষতি হতে পারে।
ভিওডি বাংলা/এম আই/জা







