ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হতে পারে সম্প্রীতি ও ঐক্যের কেন্দ্র: নাহিদ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সবচেয়ে জরুরি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে হবে। তিনি মনে করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সমাজে ঐক্য ও সংহতি গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
শুক্রবার (১ মে) রাতে বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, তরুণ প্রজন্ম একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ চায়, যেখানে মতভেদ থাকলেও সহাবস্থান বজায় থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমরা যে যেই ধর্ম মতের হই না কেন, এক সঙ্গে দেশকে গড়বো। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়বো।” তার মতে, এই প্রত্যাশা শুধু তরুণদের নয়, দেশের সব নাগরিকেরই।
বৌদ্ধ ধর্মের ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অঞ্চলে একসময় অসংখ্য বিহার ছিল, যা শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করেছে। বৌদ্ধ ধর্ম সবসময় জ্ঞানচর্চা ও সংস্কৃতির বিকাশে অবদান রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তা থেকে শিক্ষা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, বৌদ্ধ বিহার শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের স্থান নয়, বরং এটি সমাজের মূল্যবোধ গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সামাজিক সংহতি জোরদার করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা বর্তমান বিশ্বেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, ঘৃণা ও সহিংসতা বাড়ছে, তখন বুদ্ধের অহিংসার বাণী নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি বলেন, “গৌতম বুদ্ধ যে অহিংসার বাণী প্রচার করেছিলেন তা আজকের বিশ্বে ও আজকের বাংলাদেশে খুবই প্রাসঙ্গিক।”
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ও সংঘাত চলমান। এমন বাস্তবতায় শান্তি ও সহাবস্থানের বার্তা আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। বিশ্ব নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানবতার কল্যাণে অহিংসা ও শান্তির দর্শন অনুসরণ করা উচিত।
স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করা হলে এ প্রতিষ্ঠান আরও সমৃদ্ধ হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপন করা হয়।
ভিওডি বাংলা/জা







